দাকোপে প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে চলছে নদী-খাল দখল

নিষিদ্ধ জাল নেটাপাটায় ধবংস হচ্ছে দেশীয় মাছ

এফএনএস (কে, এম, আজগর হোসেন ছাব্বির: দাকোপ, খুলনা) : | প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
নিষিদ্ধ জাল নেটাপাটায় ধবংস হচ্ছে দেশীয় মাছ

উপকুলিয় উপজেলা দাকোপের অভ্যান্তরীন খাল গুলো দখল আর দূষনের কবলে। অবৈধ জাল নেটপাটা ব্যবহার করে ধবংস করা হচ্ছে দেশীয় মাছের প্রজনন। অভিযান শেষ না হতেই প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ফের আট ঘাট বেঁধে চলছে এমন বেআইনী কার্যক্রম।

৮৯৫.৬৬ হেক্টর আয়তনের উপজেলা দাকোপের অভ্যান্তরে ছোট বড় মিলিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ অন্তত ১১৭ টি নদী ও খাল আছে। এ সকল নদী ও খাল কৃষি উৎপাদনে সেচ কাজ এবং পানি নিষ্কাশনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। পাশিপাশি এ সকল খাল গুলো দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন ও প্রজননস্থল হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি ও গোষ্টি নিজেদের স্বার্থে এ সকল নদী খালে আড়াআড়ি বাঁধ দেওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। সরকারী নদী-খালের পাড় অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তুলছে বাড়ীঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ধবংসে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারী, নেটপাটা, বেড় জাল, চট জাল, ঠেলা জাল, মশারী জাল, ধর্ম জাল, ক্ষুদ্র ফাঁসের জালসহ অবৈধ নানা জাল ও নেটাপাটা ব্যবহার করে মাছের পোনা মেরে ফেলছে। যে কারনে আশংকাজনক হারে কমে যাচ্ছে দেশীয় সকল ধরনের মাছ। জনদাবীর মূখে মৎস্য দপ্তরের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন মাঝে মধ্যে খাল দখল দূষন এবং নিষিদ্ধ নেটাপাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে। তারা ব্যবহ্নত জাল নেটপাটা জব্দ করে পুড়িয়ে দেয়। কিন্তু এ সকল বেআইনী কাজের সাথে জড়িতরা এতটাই বেপরোয়া যে অভিযান শেষ না হতেই তারা একই স্থলে আট ঘাট বেঁধে ফের ব্যবহার করে নিষিদ্ধ জাল নেটপাটা। শুধু তাই নয়, প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অবৈধ বাঁধ নির্মান আর দখলের মাত্র বেড়ে যায়। এ ব্যাপারে সচেতন মহলের ভাষ্য, সমালোচনা এড়াতে প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও সেখানে আইনের কঠোর প্রয়োগ হয়না। কেবল জাল নেটপাটা জব্দ করে এই সমস্যার সমাধান হবেনা। দরকার আইনের কঠোর প্রয়োগ। অপরাধের সাথে জড়িতদের মোবাইল কোর্টের আওতায় এনে তাৎক্ষনিক জেল ও জরিমানা করতে হবে। বর্তমানে উপজেলার কামারখোলা কংস মাড়ি খাল, বাজুয়া চড়া নদী, গুনারী খাল, নলিয়ান চমন মন্দির খাল, জয়নগর নদী, লাউডোপ খাল, চুনকুড়ি নলবুনিয়ার গেটখালসহ চালনা পৌরসভা এবং ৯টি ইউনিয়নের অধিকাংশ নদীখালে এমন বেআইনী দখল দূষন নিষিদ্ধ জাল নেটাপাটা ব্যবহার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতার মাঝেও আমরা অভিযান করছি। আর উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ সেবগাতুল্ল্যাহ বলেছেন দখল দূষন এবং বেআইনী নেটপাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এটি চলমান থাকবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে