কিছুটা সম্ভাবনা জাগালেও পাকিস্তানকে হারাতে পারলো না বাংলাদেশ। ফলে এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের সোনা ও রুপার লড়াই থেকে ছিটকে গেলেন লিটন কুমার দাসরা। ১১২ রানের লক্ষ্য ৬ উইকেট হাতে রেখেই টপকে গেছে পাকিস্তান।
৫৩ রানে পাকিস্তানের ৪ উইকেট তুলে নিলেও হাসান নওয়াজ ও আব্দুল সামাদের অবিচ্ছিন্ন ৫৯ রানের জুটিতে ফাইনালে পৌঁছে গেছে পাকিস্তান। হাসান ২৭ ও সামাদ ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন। পাকিস্তানকে ৯ বল আগে জয় এনে দিয়েছেন তারা।
অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহান ১ রানের বেশি করতে পারেননি। মাহেদি হাসানের বলে ক্যাচ দেন হৃদয়কে। ৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। এরপর মাজ সাদাকাতও হৃদয়কে ক্যাচ দেন নাসুমের বলে। ১৫ রানে তিনি ফিরলে ১৬ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন হয়।
মোস্তাফিজুর রহমানের বলে সাইম আইয়ুব ২১ রান করে বিদায় নেন তামিমকে ক্যাচ দিয়ে। ৩৮ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে থাকে বাংলাদেশ। ফাইনালে খেলার স্বপ্নটা আরও বড় হয় যখন উসমান খানকে রিশাদ আউট করেন নাসুমের ক্যাচ বানিয়ে। ১৪ রানে তিনি ফিরলে ৫৩ রানে ৪ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
কিন্তু বাংলাদেশের স্বপ্ন শেষ করে দেন হাসান নওয়াজ ও আব্দুল সামাদ অবিচ্ছিন্ন ৫৩ রানের জুটি গড়ে।
এর আগে, বৃষ্টি না থাকলেও দেরিতে মাঠে গড়ায় এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে বাংলাদেশের খেলা। ম্যাচ কমে এসেছে ১৩ ওভারে। সেমিফাইনালে ব্যাট হাতে তাওহিদ হৃদয়ের ৪২ রানে ভর করে ৭ উইকেটে রানের ১১১ সংগ্রহ দাঁড় করায় লিটন কুমার দাসের দল।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাপানের নিশিনে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তান অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহান। বৃষ্টিতে খেলা ৭ ওভার কমে আসায় ১৩ ওভারে ১১১ রানের সংগ্রহ লড়াকুই বলা চলে।
বাংলাদেশের শুরুর ৪ ব্যাটারের কেউই ভালো করতে পারেননি। সাইফ হাসান করেন সর্বোচ্চ ১৯ ওই চারজনের মধ্যে। দুই ছক্কা ও একটি চার মেরেও বল খেলেন ১৭টি। ৭ রান করেন তানজিদ তামিম। ২ রান করে বোল্ড হন অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। পারভেজ হোসেন ইমন ১ রানে ফেরেন। ৪৫ রানেই ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
ওই চাপ সামাল দেন তাওহিদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৫৩ রানের জুটি গড়ে। ২৫ বলে ৪২ রান করে বাংলাদেশকে আশা দেখান হৃদয়। ৪ ছক্কা ও দুটি চার মারেন তিনি। কিন্তু সেখানেই তিনি থামলে পঞ্চম উইকেট হারায় বাংলাদেশ দলীয় ৯৮ রানে।
দুই বল পর ১৬ বলে মাত্র ১১ রান করা মোসাদ্দেকও ধরেন সাজঘরের পথ। ফলে ষষ্ঠ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ইনিংসের শেষ বলে রিশাদ হোসেন আউট হলে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১১১ রান। ৪ বলে ৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন মাহেদি হাসান।
১৩ ওভারের সেমিফাইনালে এই রান লড়াকু এবং চ্যালেঞ্জ জানানোর মতোই। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট পেয়েছেন সুফিয়ান মুকিম। দুটি আরাফাত মিনহাস এবং একটি সাইম আইয়ুব।