ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় বাসের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার সাত আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকাগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাস মুক্তাগাছাগামী সিএনজি অটোরিকশাটিকে সামনে থেকে চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়।
নিহতদের মধ্যে তিন পুরুষ, তিন নারী ও একটি শিশু রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন একই পরিবারের সদস্য। তাঁরা জামালপুর থেকে গাজীপুরে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর অটোরিকশার ভেতর থেকে এক নারী ও এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও তাঁদের দুজনেরই ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে নিহতদের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত চারজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তাঁর ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) ও মর্জিনার ছেলে মিনাল (৫)। মোফাজ্জল হোসেন গাজীপুরে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। পরিবারের সদস্যরা সেখানে যাওয়ার পথেই দুর্ঘটনার শিকার হন।
নিহতদের মধ্যে সিএনজি অটোরিকশার চালকও ছিলেন। বাকি দুইজনের পরিচয় তখনও শনাক্ত করা যায়নি। তাঁদের সঙ্গে থাকা মুঠোফোনসহ বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহ নগরের বাদেকল্পা গ্রামের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি জুমার নামাজ পড়তে মার্কাজ মসজিদের উদ্দেশে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে তিনি মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন।
নাজিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন অটোরিকশাটি বাসের সামনের অংশের ভেতরে ঢুকে দুমড়েমুচড়ে গেছে। অটোরিকশার ভেতরে তাকিয়ে তিনি এক নারী ও এক শিশুকে নড়াচড়া করতে এবং শ্বাস নিতে দেখেন। পরে তাঁদের টেনে বের করে রাস্তার পাশে রাখা হয়। হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতির মধ্যেই দুজনের মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, “আমার জীবনে এমন দুর্ঘটনা আর দেখিনি।” তাঁর অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর অনেকেই সহায়তায় এগিয়ে আসার বদলে ছবি ও ভিডিও করছিলেন। ডাকলেও তাঁদের উদ্ধারকাজে কাজে লাগানো যায়নি।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে চলে যান চালক ও তাঁর সহকারী। পরে পুলিশ বাসটি আটক করে। পুলিশের রেকার দিয়ে বাসটি জব্দ করে রাখা হয়েছে। তবে চালক ও তাঁর সহকারীকে পাওয়া যায়নি। তাঁদের আটকের চেষ্টা চলছে।
ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয় লোকজন মিলে অটোরিকশার ভেতর থেকে হতাহতদের উদ্ধার করেন।
ওসি শিবিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উভয় যানবাহনের অতিরিক্ত গতির কারণে কেউ কাউকে সাইড দিতে না পারায় সংঘর্ষটি ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জুলহাস উদ্দিনও অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করেন। তবে এটি প্রাথমিক ধারণা।
দুর্ঘটনার কারণে আকুয়া বাইপাস সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। স্থানীয় সাইফুল ইসলাম ও রহিমা বেগম মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে বাস চলাচল বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাঁদের মতে, এ ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।