স্কুল ঘেঁষে ময়লার ভাগাড়

দুর্গন্ধ-মশার উপদ্রবে ছয় মাস বন্ধ ভবনে পাঠদান

এফএনএস (মহানন্দ অধিকারী মিন্টু; পাইকগাছা, খুলনা) : | প্রকাশ: ২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
দুর্গন্ধ-মশার উপদ্রবে ছয় মাস বন্ধ ভবনে পাঠদান

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবন ঘেঁষে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তূপে দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব ও নোংরা পানির কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের দ্বিতল ভবনে প্রায় ছয় মাস ধরে পাঠদান বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মণ্ডল। সরেজমিনে দেখা যায়, শতবর্ষী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবন ও শহীদ মিনারের পেছনে একটি বহুতল ভবনের খালি জায়গায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে রয়েছে। ভবনটির নিচতলায় কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পাশের ড্রেনের নোংরা পানি ও আবর্জনা থেকেও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দীর্ঘদিনের ময়লায় জায়গাটি মশা ও মাছির প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, কয়েক দফা লোকজন দিয়ে ময়লার স্তূপ অপসারণ করা হলেও কিছুদিন পর আবারও সেখানে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার জানানো হয়েছে। কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শনও করেছেন। তবে স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান হয়নি। বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, কয়েক মাস আগেও তারা ওই ভবনে ক্লাস করত। কিন্তু প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রবের কারণে পরে অন্য ভবনে ক্লাস স্থানান্তর করা হয়। অভিভাবকদের অভিযোগ, টিফিনের সময় শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারে না। এতে তাদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। আবর্জনা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে এবং দুর্গন্ধে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ভোগান্তিতে রয়েছেন।

সহচরী বিদ্যামন্দিরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মণ্ডল বলেন, “আমরা একাধিকবার ময়লা অপসারণ করেছি। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। পাশের ভবনের পাইপ ফেটে নোংরা পানি বিদ্যালয়ের দেয়ালে পড়ছে। বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।” বিদ্যালয়ের নবগঠিত ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য এস এম মুস্তাফিজুর রহমান পারভেজ জানান, বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখেছেন। পরে ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং শিগগিরই সমস্যাটির সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে