ব্যর্থতার পরও পদত্যাগে রাজি নন টাইগার অধিনায়ক

ক্রিকেটে আপস অ্যান্ড ডাউনস থাকে : লিটন

এফএনএস স্পোর্টস | প্রকাশ: ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
ক্রিকেটে আপস অ্যান্ড ডাউনস থাকে : লিটন

এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে বাংলাদেশের এবারের ব্যর্থতা যেন আগের সব ব্যর্থতাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে গিয়েও পদক জিততে পারেনি বাংলাদেশ। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষেও হারতে হয়েছে। অথচ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদক জয়ের অন্যতম ভরসা ছিল ক্রিকেট। সেই ক্রিকেটে এমন ব্যর্থতার পরও অধিনায়ক লিটন দাসের কণ্ঠে নেই অনুতাপের সুর। নিজের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি বলে স্বীকার করলেও অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই তাঁর। ২০১০ সাল থেকে এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম আসরেই স্বর্ণপদক জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে ইনচোনে বৃষ্টির কারণে ফাইনাল পরিত্যক্ত হলে টসে রৌপ্যপদক পায় দলটি। ২০১৮ সালে জাকার্তা এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট ছিল না। ২০২৩ সালে চীনের হাংজুতে বাংলাদেশ জিতেছিল ব্রোঞ্জ। এবার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা তো দূরের কথা, পদকের লড়াইয়েই টিকতে পারেনি দল। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা তুলনামূলক দুর্বল দল পাঠালেও পূর্ণ শক্তির বাংলাদেশকে তাদের বিপক্ষে নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে। ব্যর্থতার কারণ জানতে চাইলে লিটন বলেন, ‘কোনোভাবেই আমরা এটা কাভার-আপ করতে পারিনি। আমাদের ব্যাটিং ওয়াইজ আমরা আপ টু দ্যা মার্ক ছিলাম না। এখানে এসেছি, টার্গেট ছিল অনেক বড়। তো সেটা যখন হয়নি, তারপর আরেকটা অপশন ছিল। সুযোগ আমরা মিস করেছি। ভালো ক্রিকেট খেলতে পারিনি, দ্যাটস হোয়াই সুযোগটা মিস হয়েছে।’ ক্রিকেটে অধিনায়কের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দলের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও অবদান রাখার প্রত্যাশা থাকে তাঁর কাছে। কিন্তু এশিয়ান গেমসে দুই ম্যাচ খেলে মাত্র ২ রান করেছেন লিটন। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি তাঁর অধিনায়কত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিজের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করতে গিয়ে লিটন বলেন, ‘আমার পারফরম্যান্স নট আপ টু দ্যা মার্ক। আমি দুইটা ম্যাচেই ভালো পারফরম্যান্স করতে পারিনি।’ বাংলাদেশের পদক জয়ের অন্যতম বড় আশা ছিল ক্রিকেট। সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় হতাশা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পর অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি লিটনের পদত্যাগ করা উচিত কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। তবে নেতৃত্ব ছাড়তে রাজি নন তিনি। এ বিষয়ে লিটনের বক্তব্য, ‘না, রিজাইন করতে চাই না। তবে হ্যাঁ, ক্রিকেটে আপস অ্যান্ড ডাউনস থাকে। একদিন ভালো হবে, একদিন খারাপ হবে। এখানে রিজাইনের তো কিছু না।’ এশিয়ান গেমসে সাঁতার, অ্যাথলেটিকসসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়েরা নানা সীমাবদ্ধতা ও অর্থকষ্টের মধ্যেও খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই, এমনকি কারও কারও খেলার জুতাও থাকে না। অন্যদিকে ক্রিকেটারদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও এমন ব্যর্থতা কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দলের এই পারফরম্যান্সে অনুতপ্ত কি না, জানতে চাইলে লিটন বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক বিষয়। আমরা দেশ থেকে যখন এসেছি, একটা বড় টার্গেট নিয়ে এসেছি। যখন দিতে পারিনি, অ্যাজ এ টিম হিসেবে, অ্যাজ এ ক্যাপ্টেন হিসেবে সবারই খারাপ লাগবে এবং খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক। বাট অ্যাজ এ বাংলাদেশ টিম অনেক কিছুই দিয়েছে অতীতে। আমার মনে হয় ভবিষ্যতেও দেবে। আমরা ওইটার জন্যই চেষ্টা করব আবার।’