রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে নিজ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে শহিদুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. তহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের পাকালিয়া গ্রামের মৃত মকছেদ ফকিরের ছেলে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ঘুম থেকে উঠে নিজ শয়নকক্ষে মেয়ের সঙ্গে স্বামীকে ধস্তাধস্তি করতে দেখেন। এ সময় তিনি বাধা দিলে শহিদুল ইসলাম তাকে ও তার মেয়েকে মারধর করে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
পরে মেয়ের কাছ থেকে তার মা জানতে পারেন, প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে শহিদুল ইসলাম তাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসছিলেন। এর আগে ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর রাত ১টার দিকে মায়ের অনুপস্থিতিতে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগও করা হয়। ঘটনার পর বিষয়টি আত্মীয়-স্বজনকে জানিয়ে ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি বালিয়াকান্দি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা। মামলার পর ভুক্তভোগী আদালতে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কায়ছুন্নাহার সুরমার কাছে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে জবানবন্দি দেন। মেডিকেল পরীক্ষাতেও ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। মামলায় মোট ৯ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহিদ উদ্দিন মোল্লা বলেন, আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে ওই অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তার মালিকানাধীন সম্পদ থেকেও তা আদায় করা যাবে। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য দাবির চেয়ে ক্ষতিপূরণের দাবি অগ্রাধিকার পাবে। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৬ ধারার বিধান অনুযায়ী আসামির স্থাবর-অস্থাবর বা উভয় ধরনের সম্পদ নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দিতে রাজবাড়ীর কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ক্ষতিপূরণের অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা হওয়ার পর তা ভুক্তভোগীকে প্রদান করা হবে।