ময়মনসিংহে কৃষক শফিকুল হত্যা মামলায় ৩ সহোদরের মৃত্যুদন্ড

এফএনএস (রকিবুল হাসান চৌধুরী রুবেল, ময়মনসিংহ) : | প্রকাশ: ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
ময়মনসিংহে কৃষক শফিকুল হত্যা মামলায় ৩ সহোদরের মৃত্যুদন্ড

জমি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে ময়মনসিংহের নান্দাইলে চাঞ্চল্যকর কৃষক শফিকুল ইসলাম সবি হত্যা মামলায় তিন সহোদরকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাবা-ছেলেসহ ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নান্দাইলে চর লক্ষীদিয়ার যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আবু বকর সিদ্দিকের তিন ছেলে মোজাম্মেল হক স্বপন মিয়া (৪৬), আপন মিয়া (৪৩) ও রিপন মিয়া (৪১)। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো মৃত ইসমাইলের ছেলে আবু বকর সিদ্দিক (৭১), তার ছেলে কাঞ্চন মিয়া (৩৬), নজরুল ইসলামের ছেলে রুবেল (২৯), মৃত মজিবরের ছেলে পারভেজ (৩১), মৃত আব্দুল মজিদের দুই ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫৬) ও কাশিদ (৫৯), দন্ডপ্রাপ্ত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে আল-আমিন (৩১), দন্ডপ্রাপ্ত কাশিদের দুই ছেলে সুমন মিয়া (৩৬) ও নয়ন মিয়া (২৯) এবং খোকন মিয়ার ছেলে আসাদুল (২৯)। যাবজ্জীনপ্রাপ্ত ১০ জনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত রিপন মিয়া ও যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসাদুল পলাতক রয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. সামছুদ্দিন আহাম্মেদ এ রায় প্রদান করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, নান্দাইলের চর ভোলামরির হযরত আরীর ছেলে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবির সাথে অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিক গংদের সাথে পূর্ব থেকে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি নান্দাইলের চর ভেলামারী চৌরাস্তা খেয়াঘাটের একটি কাপড়ের দোকানে বসেছিলেন শফিকুল ইসলাম । এসময় অভিযুযুক্তরা অতর্কিতে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে কুপিয়ে হত্যা করে শফিকুল ইসলামকে। এ ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ১০/১২জনকে আসামি করে নান্দাইল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় তদন্ত, ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন। তবে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত রিপন মিয়া ও যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসাদুল পলাতক রয়েছে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আনোয়ার আজিজ টুটুল ও আসামিপক্ষে এ.কে.এম. আমানউল্লাহ বাদল মামলাটি পরিচালনা করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে