বিমানবন্দরের ঘটনায় নিন্দা এনসিপির, আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি

নিউইয়র্কে ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের নিরাপত্তা চান নাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
নিউইয়র্কে ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের নিরাপত্তা চান নাহিদ
ছবি: সংগ্রহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে ধরে হেনস্তা ও আক্রমণাত্মক স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সব সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরুর দাবিও জানিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছে। সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও অন্য সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে বের হওয়ার সময় মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে ধরেন কয়েকজন ব্যক্তি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ। পরিস্থিতির মধ্যে ইউনূসের হুইলচেয়ার ঘুরিয়ে তাঁকে আবার টার্মিনালের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এনসিপির বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ কয়েকজনকে দেখা গেছে। ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে ঘটনায় অংশ নেওয়া প্রত্যেককে শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছে দলটি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীদের এমন অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “এ দেশের জনগণের কাছে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর চরিত্রে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আসেনি। তাদের মধ্যে অতীতের অপকর্মের জন্য ন্যূনতম অনুশোচনার কোনো লক্ষণও নেই।”

তবে বিমানবন্দরের ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বা তাঁদের পক্ষের ব্যাখ্যা সরবরাহ করা তথ্যের মধ্যে নেই। ফলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম দেশে ও বিদেশে সক্রিয় আওয়ামী লীগের কথিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক প্রতিহত করার আহ্বান জানান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও খুনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার শেষ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে গণহত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান এনসিপির আহ্বায়ক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধান উপদেষ্টাকে হেনস্তার ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গেও জড়িত।

এনসিপিও বলেছে, বিদেশে বাংলাদেশের একজন সাবেক সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিত্বকে ঘিরে এমন ঘটনা দেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করে দলটি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা প্রায় ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। ওই আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা নাহিদ ইসলাম পরে ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ দেন। পরে তিনি সরকার থেকে পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠন করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত আইনগত পদক্ষেপ নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।

নিউইয়র্কের বিমানবন্দরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে আবারও আওয়ামী লীগের বিচার, অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়গুলো সামনে এসেছে। তবে বিমানবন্দরে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কারা কী ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা নির্ধারণে ঘটনার ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণের নিরপেক্ষ যাচাই জরুরি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে