ডেঙ্গুতে এক দিনে ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
ডেঙ্গুতে এক দিনে ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার
ছবি: সংগ্রহীত

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৬ জনে। আর আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও নিয়ন্ত্রণকক্ষের পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী।

মৃত্যুর হিসাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ২ জন, খুলনা বিভাগে ২ জন এবং চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

ঢাকার বাইরের বিভাগেও বাড়ছে রোগীর চাপ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৪৬৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকাগুলো থেকে। চট্টগ্রাম বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ৩১৮ জন এবং খুলনা বিভাগে ২৩০ জন।

এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৯৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৯১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৮৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৮৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৭ জন, রংপুর বিভাগে ৭১ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এক দিনে প্রায় দুই হাজার রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় ডেঙ্গু চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী শনাক্ত হওয়ায় মশা নিয়ন্ত্রণ ও রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

চলতি বছরে আক্রান্ত এক লাখের বেশি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৩৯৬ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৭ হাজার ২৯৬ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন আরও ২ হাজার ৯৬৫ জন। তবে নতুন রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না।

গত বছরের তুলনায়ও চলতি বছরের আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। ২০২৫ সালে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। ওই বছর মৃত্যু হয়েছিল ৪১৩ জনের। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, আর মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের।

দেশে ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা যায় ২০২৩ সালে। সে বছর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন।

জ্বর কমলেও সতর্ক থাকা জরুরি

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে শুধু জ্বরের দিকে নজর রাখলেই চলে না। জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

ডেঙ্গু হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তরল খাবার গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর ও ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন ও ডাইক্লোফেনাকের মতো ওষুধ রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাই চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া এসব ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। রক্ত পরীক্ষা ও পরবর্তী চিকিৎসার সিদ্ধান্তও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, ফুলের টব, ড্রাম, পরিত্যক্ত পাত্র ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করা জরুরি। কারণ, জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে