রেলওয়ের দখল হওয়া জমি উদ্ধার করা হবে: রেলমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
রেলওয়ের দখল হওয়া জমি উদ্ধার করা হবে: রেলমন্ত্রী
ছবি: সংগ্রহীত

রেলওয়ের দখল হয়ে যাওয়া জমি চিহ্নিত করে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ মো. রবিউল আলম। উদ্ধার করা জমি প্রথমে রেলওয়ের নিজস্ব প্রয়োজনে এবং পরে রাষ্ট্রের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে রেলওয়ের কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, কোচ মেরামতের মান উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিন ধরে মেরামতের অপেক্ষায় থাকা কোচগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, রেলওয়ের জমি কোথায় কী পরিমাণ দখল হয়ে আছে, তা চিহ্নিত করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সৈয়দপুরে রেলওয়ের জমি নিয়ে পৌরসভার সঙ্গে বিরোধের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, একসময় রেলওয়ের ২৫ একর জমি পৌরসভাকে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তবে পৌরসভার দখলে রয়েছে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ একর জমি। এ নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভার মধ্যে বিরোধ রয়েছে, যা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেও রয়েছে।

রেলওয়ের জমি ব্যক্তি ও বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সাধারণত লাইসেন্সের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে নতুন করে জমি লিজ দেওয়া বন্ধ রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, রেলওয়ের যেসব জমি দখলে রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জমিগুলো উদ্ধারের পর রেলওয়ের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরে রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রয়োজনে সেগুলো ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা ও কোচ মেরামতের মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে মিলিয়ে প্রায় ৪০০টি কোচ মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব কোচ মেরামত করে আবার চলাচলের উপযোগী করতে দক্ষ কারিগর নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

কারখানার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখার সময় কিছু যন্ত্রাংশ তৈরির মানে সন্তোষ প্রকাশ করলেও কোচ মেরামতের কয়েকটি কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ জানান তিনি। বিশেষ করে কোচের জানালা ও বিভিন্ন অংশ মেরামতে আরও উন্নত মান নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত সরকার রেলওয়েতে আমূল পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে। যাত্রীবান্ধব রেলসেবা সম্প্রসারণ সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে রেলওয়ের কারখানাগুলোকে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার অতীত সক্ষমতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একসময় এখানে প্রায় ১২ হাজার ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি হতো। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে ৬৫৪ থেকে ৬৫৫টিতে নেমে এসেছে। ফলে অনেক যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে।

তাঁর মতে, যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া গেলে আমদানিনির্ভর অনেক যন্ত্রাংশ দেশেই তৈরি করা সম্ভব। এতে কারখানার উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি রেলওয়ের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের সরবরাহেও সহায়তা মিলতে পারে।

মন্ত্রী জানান, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা ১৮৬২ থেকে ১৮৭০ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। একসময় দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সুনামধন্য এই কারখানার সক্ষমতা সময়ের সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়েনি। এখন কারখানাটিকে রেলওয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

রেলওয়ের চিকিৎসাসেবা নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হাসপাতাল পরিচালনা এবং চিকিৎসক ও নার্সের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

দেশের প্রায় ৯টি রেলওয়ে হাসপাতাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। এ সময় রেলওয়ে ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

রেলওয়ের জমি উদ্ধার, কোচ মেরামত এবং কারখানার উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রেলসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে জমি উদ্ধারের কার্যক্রম, দক্ষ কারিগর নিয়োগ এবং কারখানার আধুনিকায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে