সিলেটে গভীর রাতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক সহকারী প্রকৌশলীর বাসায় ঢ়ুকে মারধর, জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ওই দপ্তরের তালিকাভুক্ত এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। চাঁদা না দিলে সিলেটে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রকৌশলী মো. শাহীন হোসেন। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। তবে পুলিশ জিডিটি বাতিল করে তাঁকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছে। গত ১২ অক্টোবর রাত ৩টার দিকে নগরীর মোঘলটুলা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম সিলেট মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম সম্পাদক।
জিডিতে শাহীন হোসেন অভিযোগ করেন, ঘটনার রাতে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর বাসায় গিয়ে দরজায় ধাক্কাধাক্কি করতে থাকেন। তাঁদের পরিচয় জানতে চাইলে একজন নিজেকে জাহাঙ্গীর পরিচয় দিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঠিকাদার বলে জানান। পরিচয় জানার পর দরজা খুলে দিলে তাঁরা বাসায় প্রবেশ করে তাঁর সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও মারধর করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, বাসায় ঢ়ুকে হামলাকারীরা বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বাসা থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। সিলেটে থাকতে হলে টাকা দিতে হবে, অন্যথায় বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শাহীন হোসেন জানান, ঘটনার পর তিনি সিলেটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেন। জেলা প্রশাসকের পরামর্শে অনলাইনে কোতোয়ালি থানায় জিডি করেন। সিলেটে যোগদানের দেড় মাসের মতো হয়েছে তাঁর। এ সময়ের মধ্যে কাউকে ভালোভাবে চিনে ওঠার সুযোগ হয়নি। তবে দাপ্তরিক সূত্রে ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে তাঁর পরিচয় রয়েছে। অন্যদিকে প্রকৌশলীর বাসায় গভীর রাতে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহাঙ্গীর আলম। জাহাঙ্গীরের ভাষ্য, গভীর রাতে গাড়ি থেকে নেমে প্রকৌশলীকে তাঁর বাসায় যেতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে প্রকৌশলীর পরিচয় না থাকায় তাঁরা বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে তিনি, তাঁর বন্ধু সুমন, বড় ভাই ইকবাল এবং এলাকার কয়েকজন মুরব্বি প্রকৌশলীর বাসায় খোঁজ নিতে যান।
জাহাঙ্গীর দাবি করেন, ঘটনাটি মূলত ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটেছে। এর সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন বা অনৈতিক বিষয় জড়িত ছিল না। ঘটনার পরদিন অফিসে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুল আরেফিন খান বলেন, তিনি ঘটনাটি মৌখিকভাবে শুনেছেন এবং এ বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে বলে জানেন। তবে অফিসে আলোচনার মাধ্যমে ঘটনাটি সমাধান হয়েছে। এমন দাবি তিনি অস্বীকার করেন। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাঈনুল জাকির জানান, এ ঘটনায় করা জিডি বাতিল করা হয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ সাধারণ ডায়েরির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। এ জন্য ভুক্তভোগী প্রকৌশলীকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, জিডির বিষয়ে শাহীন হোসেনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। শাহীন তাঁকে জানিয়েছেন, দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে লিখিত অভিযোগ দেবেন। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, বিএনপির কোনো নেতা এমন কাজ করতে পারেন না। যিনি এ কাজ করেছেন, তিনি অপরাধী। তাঁকে গ্রেপ্তার করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। নাসিম হোসাইন আরও বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবেও সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।