বার বার দরপত্র দিয়েও মহাসড়কে যানবাহনের ওজন মাপার যন্ত্র সংগ্রহ করতে পারছে না সওজ

এফএনএস এক্সক্লুসিভ | প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
বার বার দরপত্র দিয়েও মহাসড়কে যানবাহনের ওজন মাপার যন্ত্র সংগ্রহ করতে পারছে না সওজ

ঊারবার দরপত্র দিয়েও মহাসড়কে যানবাহনের ওজন মাপার যন্ত্র সংগ্রহ করতে পারছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। অথচ ওই লক্ষ্যে মহাসড়কে নির্মাণ করা হয়েছে ১৭ ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। ওসব কেন্দ্রের অবকাঠামোগত কাজ শেষ হলেও যানবাহন চলন্ত অবস্থায় ওজন মাপার যন্ত্র ডব্লিউআইএম স্কেল বসানো যায়নি। ফলে পূরণ হচ্ছে না মহাসড়কে ওজন নিয়ন্ত্রণের মূল উদ্দেশ্য। বরং তা দরপত্র প্রক্রিয়াতেই স্থবির হয়ে আছে। সওজ দুই দফা দরপত্র আহ্বান করেও ওই যন্ত্র কিনতে পারেনি। এখন তৃতীয়বার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ওজন মাপার যন্ত্র ‘ওয়ে-ইন-মোশন (ডব্লিউআইএম) স্কেল’ ব্যবস্থা না থাকায় চালু করা যাচ্ছে না অবকাঠামো প্রায় প্রস্তুত অবস্থায় থাকা কেন্দ্রগুলো। তাতে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের সুফল নিয়ে অনিশ্চিয়তা বাড়ছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সওজ মহাসড়কে অতিরিক্ত পণ্যবাহী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ১৭টি ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। তার মধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে ১০টির পূর্তকাজ। কিন্তু এখনো ওই কেন্দ্রগুলোয় ওজন মাপার যন্ত্র স্থাপন করা যায়নি। বিগত ২০১৯ সালে প্রকল্পটি প্রথমে ১ হাজার ৬৩০ কোটি ২৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে অনুমোদন হয়। তবে গত বছরের মে মাসে প্রথম সংশোধনীর মধ্য দিয়ে ব্যয় কিছুটা কমিয়ে ১ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা নির্ধারণ হয়। পাশাপাশি মেয়াদ দুই দফা বাড়িয়ে চলতি ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু তার মধ্যেও কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

সুত্র জানায়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যে ১৭টি স্থায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। তার প্রতিটিতেই দোতলা নিয়ন্ত্রণ ভবন, নিয়ন্ত্রণকক্ষ, বুথ, গণশৌচাগার, ক্যাফেটেরিয়া, গুদামঘর, সেপটিক ট্যাংক, ওভারহেড ট্যাংক, সাবমারসিবল পাম্প, সীমানাপ্রাচীরের পাশাপাশি অ্যাপ্রোচ সড়কের রিজিড ও ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট, রোড ব্যারিয়ার, মিডিয়ান, আরসিসি ড্রেন ও বক্স কালভার্টের মতো অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ১০টি ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের অবকাঠামো নির্মাণকাজের ৯০ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে। সেগুলো হলো চট্টগ্রামের দোহাজারী, সীতাকুণ্ডের দুটি কেন্দ্র (ঢাকামুখী ও চট্টগ্রামমুখী), ময়মনসিংহের ত্রিশাল, টাঙ্গাইলের বড় ইশাপুর, সাতক্ষীরার নাওয়াবাদকাঠি, চুয়াডাঙ্গার দুটি কেন্দ্র (চুয়াডাঙ্গা ও দর্শনা সীমানা), নবাবগঞ্জের কয়লাবাড়ি ও পঞ্চগড়ের ভজনপুর। ওসব কেন্দ্রে ভবনের মূল কাঠামো, ইটের গাঁথুনি ও প্লাস্টারের কাজ, রাস্তার পেভমেন্ট এবং মাটি ভরাট, ড্রেনেজ ও সীমানাপ্রাচীরের কাজ মোটামুটি সম্পন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে শুধু কিছু জায়গায় ভবনের চূড়ান— ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে। তবে সেগুলোর কোনোটিতেই যানবাহন চলন্ত অবস্থায় ওজন মাপার যন্ত্র ডব্লিউআইএম স্কেল বসেনি। 

সূত্র আরো জানায়,  দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে পণ্য পরিবহনের উৎসমুখে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্দেশ্য হচ্ছে অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি ওজনের পণ্য পরিবহন ঠেকানো। যাতে সড়কের নির্ধারিত আয়ুষ্কাল ফুরানোর আগেই তা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তাছাড়া টেকসই, নিরাপদ ও ব্যয়সাশ্রয়ী সড়ক অবকাঠামো এবং সমন্বিত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলাও প্রকল্পটির উদ্দেশ্য। কিন্তু বাস্তবায়ন দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশের সড়ক-মহাসড়কে অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চলা যানবাহনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক। ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে প্রকল্পটির উদ্দেশ্যও। চলতি বছরের জুনেই ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা আরো দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়নি। বর্তমান ডিপিপি অনুযায়ী ভৌত অগ্রগতি ৬০ শতাংশ। তবে প্রকল্পটি আরেক দফা সংশোধন হতে পারে। 

এদিকে এ বিষয়ে জানতে ‘গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পণ্য পরিবহনের উৎসমুখে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্পের পরিচালক কেএম নুর-ই-আলমের জানান, ওয়ে-ইন-মোশন যন্ত্র সংগ্রহের জন্য তৃতীয় দফায় টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। তবে তা এখনো শেষ করা যায়নি। বিষয়টি পুরোপুরি সওজ’র হাতে নেই। অনুমোদনের জন্য এটি সিজিবি পর্যায় পর্যন্ত যায়। ওয়ার্ক অর্ডার দেয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যন্ত্র স্থাপনের কাজ শুরু করবে। তবে আশা করা যায় টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই যন্ত্রগুলো বসানো যাবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে