কক্সবাজার ইনানী মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় পিরোজপুরের নাসরিন জাহান মুক্তা (২৯) নামের এক স্কুল শিক্ষক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তার নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল।
কক্সবাজারে আনন্দভ্রমণে গিয়ে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মুক্তার নিখোঁজ হওয়ার খবরে তার নিজ এলাকা মঠবাড়িয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার ও স্বজনরা তার দ্রুত সন্ধান দিতে প্রশাসনের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন। নিখোঁজ নাসরিন জাহান মুক্তা পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া গ্রামের খান বাড়ির বাসিন্দা মোস্তফা কামালের মেয়ে। তিনি ঢাকায় সাভারের স্বপ্ন বিলাস স্কুৃল নামের একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন। মুক্তার স্বামী ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি। অগ্নিকান্ডের ধ্বংসস্তুপ থেকে ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হলেও সেখানে মুক্তাকে সনাক্ত করতে পারেনি তার স্বামীসহ পরিবার অন্য সদস্যরা। তিনি বেঁচে আছেন, নাকি আগুনে পুড়ে মারা গেছেন, এ অনিশ্চয়তায় চরম উৎকণ্ঠা ও শোকে দিন পার করছে তার সজনরা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পূজার ছুটির ফাঁকে দুদিন আগে মুক্তা তার দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে ঘুরতে যান। তারা পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটাপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্ট -এ উঠেছিলেন। শনিবার সকালে তার দুই বান্ধবী সৈকতে হাঁটতে বের হন। তখন মুক্তাকেও সাথে যাওয়ার কথা বললে তিনি রুমে ঘুমাবেন বলে জানান। কিন্তু বান্ধবীরা রিসোর্ট থেকে বের হওয়ার মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। চোখের সামনে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা রিসোর্টের ভেতরে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে যায়। এ বিষয়ে মুক্তার আপন ফুফাতো ভাই ও মঠবাড়িয়া রুস্তুম আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সমপাদক ইমরান হাজী চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, উদ্ধার হওয়া জন লাশের মধ্যে আমার মামাত বোনের লাশ এখনো সনাক্ত করা যায়নি। বোন জামাই ফয়সালের বর্তমানে কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। পরিবারের সবাই চরম উদ্বিগ্ন, আমাদের এই শোক ও অনিশ্চয়তা সইবার মতো কোনো শক্তি আর অবশিষ্ট নেই। মরদেহ সনাক্ত করতে পারলে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হবে।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। খোঁজ খবর নিয়ে দেখব কিছু করা যায় কি না। ওই ঘটনায় অন্য নিহতরা হলেন- রাজধানী ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী, খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা ও নাফিসতা মীম, চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির ও ফায়িজান আহম্মেদ আরও তিনজন।