সরাইলে

কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগে ৬ জনের বিরূদ্ধে মামলা, দুই ধর্ষক গ্রেপ্তার

এফএনএস (মাহবুব খান বাবুল; সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : | প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগে ৬ জনের বিরূদ্ধে মামলা, দুই ধর্ষক গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মাহফিলে যাওয়ার পথে ১৪ বছর বয়সের এক কিশোরীকে অপহরণের পর গণধর্ষণের অভিযোগে ৬ জনের বিরূদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাহার মিয়া (২২) ও নাঈম মিয়া (২৪) নামের দুই তরূনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে নাঈমকে গত রোববার দুপুরে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ও বাহারকে শনিবারে সরাইল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত আশ্বাস দিয়ে ও পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে কতিপয় কথিত সংবাদকর্মী আসামীদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেয়ার বিষয়টি চারিদিকে চাউর হচ্ছে। বাণিজ্যের লক্ষ্যে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মাঠে নেমেছিল কয়েকজন সমাজপতিও। ওসি বলছেন, একটি প্রতারক চক্র কাজ শুরূ করেছিল। গ্রেপ্তারকৃত দুই কিশোরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ, মামলার এজহার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৭ অক্টোবর বুধবার রাতে উপজেলার একটি মাদ্রাসায় ওয়াজ মাহফিল চলছিল। ওয়াজ শুনার জন্য রাত ৮টার দিকে ওই কিশোরী বাড়ি থেকে বের হয়ে মাহফিলে যাচ্ছিল। পূর্ব থেকেই অসৎ উদ্যেশ্যে ওঁৎ পেতে বসেছিল একটি গ্রূপ। কিছু দূর যাওয়ার পর ৪ ব্যক্তি ওই কিশোরীকে জোর পূর্বক ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশায় তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। নিজেকে রক্ষার জন্য কিশোরী অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ওই ৪ ব্যক্তির সাথে পথিমধ্যে আরো ২ জন যুক্ত হয়। সেখানে ইচ্ছার বিরূদ্ধে ওই কিশোরীকে ৩ ব্যক্তি পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। এতে করে কিশোরী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় ওই কিশোরীকে অটোরিকশায় করে তাদের বাড়ির সামনে ফেলে রেখে সটকে পড়ে ধর্ষকরা। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে কিশোরীর কান্নার শব্দে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে। মায়ের কাছে কিশোরী পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়। ক্রমেই অসুস্থ্য হতে থাকলে কিশোরীর মা প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিশোরীর অবস্থার দ্রূত অবনতি হওয়ায় পরবর্তীতে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় গত শনিবার কিশোরীর মা বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সরাইল থানায় একটি মামলা করেন। এর আগে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার আশ্বাস ও পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে কতিপয় কথিত সংবাদকর্মী আসামী পক্ষের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা খাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি চারিদিকে চাউর হচ্ছে। ধামাচাপা দিতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছিলেন কয়েকজন সমাজপতিও। পুলিশের ভূমিকায় ভেস্তে গেছে এদের ধান্ধাবাজি। শনিবারেই সরাইল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার অন্যতম নায়ক বাহার মিয়াকে সরাইল থেকে গ্রেপ্তার করেন। আর প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গত রোববার ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা গ্রেপ্তার করা হয় আরেক নায়ক নাঈমকে। তারা দু’জনকেই আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে পাঠানো হয়েছে। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টিকে ভিন্নখাতে নিতে একটি প্রতারক চক্র কাজ শুরূ করছিল। এ জন্যই মামলা করতে পরিবারের লোকজনের বিলম্ব হয়েছে।  গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ইতোমধ্যে বাকি চারজনকেও সনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা ও অভিযান অব্যাহত আছে। গুরূত্ব সহকারে মামলার তদন্ত কাজ চলছে। জড়িত কেউই রেহাই পাবে না। প্রত্যেককে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে