দক্ষিনাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহি আমতলী সরকারি কলেজে ছাত্রাবাস নির্মানের দাবী জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ছাত্রাবাসের অভাবে কলেজের শত শত শিক্ষার্থীদের দূর-দূরান্ত থেকে পায়ে হেঁটে কিংবা শহরের ব্যক্তি মালিকানাধীন মেসে থেকে লেখাপড়া করতে হয়। এতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছে।
আমতলী কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৯ সালে আমতলী কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই অঞ্চলের প্রথম কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর দূর দূরান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী এই কলেজে এসে ভর্তি হতে থাকে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া নির্বিঘ্ন এবং দূর-দূরান্ত থেকে আগত শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ মাঠের পশ্চিম পাশে ১৯৭২ সালে ৪০ সিটের একটি টিনের ছাত্রাবাস তৈরি করেন। ছাত্রাবাসটি চালুর পর প্রতি বছরই এটির সিট সংখ্যা পূরণ হয়ে যেত। ছাত্রাবাসটি সংস্কার না করায় ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় ছাত্রাবাসটির অস্তিত্বই বিলীনের পথে। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রাবাসটির কোনো সংস্কার না করায় প্রথমে এর দরজা জানালা খুলে পড়ে। ২০১৫ সালের বর্ষা মৌসুমে কোন এক রাতের আঁধারে দুমড়ে মুচড়ে মাটিতে পড়ে যায়। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর সম্প্রতি সেট সংস্কার করে শ্রেনী কক্ষ সংকটের কারনে শ্রেনী কক্ষ ও পরীক্ষার হলরুম হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বন্ধ কওে দেয়া হয়েছে ছাত্রাবাস।
আমতলী সরকারি কলেজের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. জালাল উদ্দিন জানান, আমি ৮৬, ৮৭ ও ৮৮ সালে তিন বছর কলেজ ছাত্রাবাসের সুপার ছিলাম। তখন কোনো সিট খালি ছিল না। অনেক দূর-দূরান্তের ছাত্ররা সব সময় এ ছাত্রাবাসে থেকে লেখাপড়া করত। তখন লেখাপড়ার মান ভালো ছিল। ছাত্রাবাসটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এটি লাঘবের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
বর্তমানে কলেজটিতে প্রায় আড়াই হাজারের মতো শিক্ষার্থী রয়েছে। এরা বহু দূর-দূরান্ত থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ি থেকে এসে ক্লাস করেন। অনেকে আবার শহরের ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে ওঠা মেসে থেকেও পড়াশুনা করছেন। এতে তাদের ভোগান্তি আর আর্থিক খরচ অনেক বেড়ে যায়। এত খরচ দিয়ে অনেকেই সঠিকভাবে আর লেখাপড়া করতে পারেন না।
আমতলী সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম জানান, কলেজের কোনো ছাত্রাবাস না থাকায় বাড়ি থেকে প্রতি দিন হেঁটে এসে ক্লাস করতে হয়। এতে লেখাপড়ার মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। শহরে থেকে লেখাপড়া করবো সে সামর্থ্য আমার নেই।
হলদিয়া থেকে আসা জিয়া মরিচবুনিয়া গ্রামের জাহিদ টেপুরা গ্রামের হাসানের একই কথা। তারা কলেজে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে একটি আধুনিক ছাত্রাবাস নির্মাণের দাবি জানান।
আমতলী উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো.ইমরান খান বলেন, দক্ষিনাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহি মানুষগড়ার কারিগর আমতলী সরকারী কলেজে ছাত্রবাস প্রয়োজন। গরীব ও দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রাবাস নির্মান করা জরুরী হয়ে পড়েছে।
আমতলী সরকারী কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী আমতলী উপজেলা সাংবাদিক সমন্বয় পরিষদের সাধারন সম্পাদক মো. হায়াতুজজামান মিরাজ বলেন, ঐতিহ্যবাহি আমতলী সরকারী কলেজে ছাত্রাবাস নাই এটাই মেনে নিতে পারছিনা। সাধারন গরীব অসহায় দূরবতী শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরী ছাত্রাবাস নির্মানের দাবী জানাই।
আমতলী সরকারি কলেজের অধ্যাক্ষ প্রফেসর ডঃ মো. জামাল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে কলেজে ছাত্রাবাস থাকা অতি জরুরি। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ছাত্রাবাস নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আমতলী সরকারী কলেজের শিক্ষার্থীরা দ্রুত কলেজটিতে ছাত্রাবাস নির্মানের দাবী জানিয়েছেন।