উৎসবের আমেজ, বিদায়ের আবেগ আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহে নাটোরের লালপুরে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বিজয়া দশমীতে উপজেলার ৪৬টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ছয় দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় প্রতিমা বিসর্জন।
দুর্গোৎসব ঘিরে গত কয়েক দিন উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ছিল ভক্ত-দর্শনার্থীদের আনাগোনা। পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, আরতি ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় মুখর ছিল মণ্ডপগুলো। বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় করেন ভক্তরা। সিঁদুর খেলা, প্রার্থনা ও মঙ্গলকামনার মধ্য দিয়ে বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ধর্মীয় রীতি মেনে নির্ধারিত স্থানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
পালিদেহা গোপাল মন্দিরের সভাপতি গগণ কুমার সরকার বলেন, উৎসাহ-উদ্দীপনা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে নারী-পুরুষ সবাই শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করেছেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসব শেষ হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ লালপুর উপজেলা শাখার সভাপতি দীপেন্দ্রনাথ সাহা বলেন, উপজেলার ৪৬টি পূজামণ্ডপে আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন ও প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সহযোগিতা করেছেন। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
এদিকে দুর্গোৎসব ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। মণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। নিয়মিত টহল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারিও ছিল নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। পুলিশের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়। সবার সহযোগিতায় ৪৬টি মণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন ও প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক তদারকি করা হয়েছে। ৪৬টি মণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা ও প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি। ভবিষ্যতেও উপজেলায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে পরিবেশ অটুট থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন ইউএনও।
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও উৎসবের স্মৃতি আর সম্প্রীতির বার্তা রেখে গেছে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।