১০০০ গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলকের দিকে ছুটছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তাই তাঁর প্রতিটি গোলই এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কিন্তু সৌদি প্রো লিগে আল ফয়সালির বিপক্ষে আল নাসরের ৩-১ গোলের জয়ের ম্যাচে পাওয়া একটি গোল নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। লিগ কর্তৃপক্ষ গোলটি রোনালদোর নামে নথিভুক্ত করলেও ফুটবলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান অপ্টা সেটিকে আত্মঘাতী গোল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফলে পর্তুগিজ তারকার ক্যারিয়ারের গোলসংখ্যা ৯৮২, নাকি ৯৮১, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ম্যাচের ৪৯তম মিনিটে স্বদেশি জোয়াও ফেলিক্সের ফ্রি-কিক থেকে হেড করার চেষ্টা করেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। তিনি বলের নাগাল পেতে উঁচুতে লাফিয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু তাঁর মাথায় বলের স্পষ্ট স্পর্শ লেগেছিল কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এরপর আল ফয়সালির ডিফেন্ডার আন্দ্রেই জিরোত্তোর গায়ে লেগে বল জালে ঢোকে। গোলটি নিজেদের বলে দাবি করে রোনালদো সঙ্গে সঙ্গে চিরচেনা ‘সিউ’ উদ্যাপনে মেতে ওঠেন।
সৌদি প্রো লিগের হিসাবে, এটি রোনালদোর ক্যারিয়ারের ৯৮২তম গোল। সে হিসাবে ১০০০ গোলের মাইলফলক ছুঁতে তাঁর প্রয়োজন আর মাত্র ১৮ গোল। কিন্তু অপ্টা গোলটিকে জিরোত্তোর আত্মঘাতী গোল হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের প্রতিবেদনেও গোলটি নিয়ে এই মতপার্থক্যের কথা উঠে এসেছে। ফলে গোলের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
২০১০ সালের ঘটনার সঙ্গে মিল
রোনালদোর গোল নিয়ে এমন বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১০ সালে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে তাঁর নেওয়া একটি ফ্রি-কিক সতীর্থ পেপের গায়ে লেগে জালে ঢুকেছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে গোলটি পেপের নামে নথিভুক্ত হলেও রোনালদো ও রিয়াল মাদ্রিদ সেটিকে তাঁর গোল বলে দাবি করেছিলেন। আল ফয়সালির বিপক্ষে এবারের ঘটনাটিও সেই পুরোনো বিতর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।
এবারের গোলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্তদের মধ্যেও শুরু হয়েছে আলোচনা। কেউ কেউ দাবি করছেন, জিরোত্তোর গায়ে লাগার আগেই বলটি রোনালদোর মাথায় হালকাভাবে স্পর্শ করেছিল। তাঁদের মতে, ডিফেন্ডারের স্পর্শে বলের দিক বদলালেও গোলের কৃতিত্ব রোনালদোরই হওয়া উচিত। তবে বলে রোনালদোর স্পষ্ট স্পর্শ ছিল কি না, সেটিই বিতর্কের মূল বিষয়।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও উরুগুয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের ম্যাচে কাছাকাছি একটি ঘটনা ঘটেছিল। ব্রুনো ফার্নান্দেসের ক্রসে হেড করার চেষ্টা করে গোলের কৃতিত্ব দাবি করেছিলেন রোনালদো। পরে বলের সেন্সর প্রযুক্তি পর্যালোচনা করে ফিফা জানায়, বলে তাঁর স্পর্শ লাগেনি। গোলটি ফার্নান্দেসের নামেই নথিভুক্ত হয়।
ইনস্টাগ্রামে রোনালদোর বার্তা
আল ফয়সালির বিপক্ষে গোলের পর নিজের উদ্যাপনের একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন রোনালদো। ক্যাপশনে লেখেন, ‘চলো এগিয়ে যাই!’ গোলটির স্বীকৃতি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তাঁর পোস্টে সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য ছিল না।
ম্যাচে অবশ্য আল নাসরের জয় নিশ্চিত করতে আরও দুই খেলোয়াড় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শুরুতেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আবদুল্লাহ আল-হামদান। এরপর রোনালদোর বিতর্কিত গোল ব্যবধান বাড়িয়ে করে ২-০। ৬৬তম মিনিটে আল ফয়সালির হয়ে থিও বঙ্গোন্ডা একটি গোল শোধ করেন। ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েল গোল করে আল নাসরের ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।
জাতীয় দলকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর আল নাসরের হয়ে মাঠে নামেন রোনালদো। জাতীয় দলসংক্রান্ত ওই ঘটনার জেরে তাঁর ওপর ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ২৫৫ ইউরো জরিমানার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে চায় আল নাসর
আল ফয়সালির বিপক্ষে জয়ের মধ্য দিয়ে সৌদি প্রো লিগের শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে আল নাসর। ১০ ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দলটি। সমান ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে আল হিলাল। ১১ ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আল কাদসিয়া।
মাঠে আল নাসরের জয় নিশ্চিত হলেও রোনালদোর গোলের স্বীকৃতি নিয়ে আলোচনা থামেনি। সৌদি প্রো লিগের নথিতে গোলটি তাঁর নামে থাকলেও অপ্টার হিসাব ভিন্ন। শেষ পর্যন্ত গোলটি কোন নামে গণ্য হবে, সেটিই এখন রোনালদোর ১০০০ গোলের পথে পরিসংখ্যানের হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।