তীব্র হচ্ছে নদীভাঙন

সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই

এফএনএস | প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই

নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদী যেমন জীবন ও জীবিকার উৎস, তেমনি অনেক মানুষের জন্য এটি দুর্ভোগেরও কারণ। প্রতি বছর নদীভাঙনের ফলে অসংখ্য পরিবার ভিটেমাটি হারায়, ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয় এবং নতুন করে দারিদ্র্য ও বাস্তুচ্যুতির সংকট তৈরি হয়। জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দখল, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং নদী-খালে পলি জমে যাওয়ার কারণে এই সমস্যা আরও তীব্র হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নদীভাঙন রোধ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী-খাল খননের উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। তবে কেবল খনন কার্যক্রম দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ভাঙনপ্রবণ এলাকায় দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ কিছুটা সুরক্ষা পায়। নদী ও খালের জমি অবৈধ দখলের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা প্রয়োজন। দখলের কারণে অনেক স্থানে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা ভাঙন ও জলাবদ্ধতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি নদীর সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং তা সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি। উপকূলীয় অঞ্চলে সংকট আরও গভীর। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস এবং নদীভাঙনের সম্মিলিত প্রভাবে অনেক এলাকা হুমকির মুখে রয়েছে। এসব অঞ্চলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও টেকসই বাঁধ নির্মাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী নদীগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় আঞ্চলিক সহযোগিতাও বাড়ানো প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, পানিসম্পদ খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। প্রকল্পের ধীরগতি, অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ করতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে নদী ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে হবে। নদীভাঙন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি মানুষের অস্তিত্ব, খাদ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গেও জড়িত। তাই সাময়িক উদ্যোগ নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে নদী ও জনপদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে