‘দ্য ডিক্টেটর’ ও ‘বোরাট’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন ব্রিটিশ অভিনেতা সাচা ব্যারন কোহেন। তবে এবার কমেডি ঘরানার সিনেমা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। গত শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে তাঁর নতুন সিনেমা ‘আলি জি: হু ইজ আই?’। এটিই তাঁর শেষ কমেডি সিনেমা বলে জানিয়েছেন ৫৫ বছর বয়সী এই অভিনেতা। সম্প্রতি ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোহেন বলেন, ‘আমি এইমাত্র যে সিনেমাটি করেছি, সেটিই আমার জীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সিনেমা। কিন্তু এ ধরনের কাজ আর করব না।’ এর আগে একই ধরনের কমেডি থেকে সরে আসার কথা বললেও আবার কেন এই ঘরানায় ফিরলেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। কোহেন জানান, সমাজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই নতুন সিনেমাটি তৈরি করেছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের দুই প্রান্তের চরমপন্থা এবং নৈতিকতার নামে চালানো সহিংসতার বিপদ তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি। কোহেনের ভাষায়, ‘আমাদের সমাজ কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে আমি আতঙ্কিত। আমার সিনেমার মাধ্যমে আমি রাজনৈতিক মতাদর্শের দুই দিকের চরমপন্থা এবং নৈতিকতার দোহাই দিয়ে চালানো সহিংসতার বিপদ দেখাতে পারি।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা তথ্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অভিন্ন সত্য না থাকলে গণতন্ত্র ভেঙে পড়বে, আর সহনশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। মানুষকে হাসানোও একধরনের থেরাপি।’ এ ধরনের কমেডি নির্মাণকে ঝুঁকিপূর্ণ ও শারীরিকভাবে কষ্টসাধ্য বলেও উল্লেখ করেছেন কোহেন। নতুন সিনেমার শেষ দৃশ্যটি ১২টি লোকেশনে টানা আট ঘণ্টা ধরে ধারণ করা হয়েছে। এতে গুলির শব্দ, চিকিৎসাপদ্ধতি, ড্রোন ও বিস্ফোরণের মতো বিষয় ছিল। শুটিংয়ে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়। ২০০০ সালে ‘ডা আলি জি শো’-এর মাধ্যমে পরিচিতি পান কোহেন। পরে ‘বোরাট’, ‘ব্রুনো’, ‘দ্য ডিক্টেটর’ ও ‘হু ইজ আমেরিকা’র মতো কাজ তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। এবার কমেডি থেকে সরে এসে ভিন্ন ধরনের কাজে মনোযোগ দিতে চান এই অভিনেতা।