হাতিয়ায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগে প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও রাসেল ইকবাল

এফএনএস (কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার; হাতিয়া, নোয়খালী) : | প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
হাতিয়ায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগে প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও রাসেল ইকবাল

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় যোগদানের পর থেকেই একের পর এক জনকল্যাণমূলক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে দ্বীপবাসীর মন জয় করে নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। গ্রাম থেকে শুরু করে শহর-সর্বত্রই তাঁর নানামুখী প্রশংসনীয় কর্মকাণ্ডের সুবাস ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন একটাই কথা-এমন কর্মতৎপর ও জনবান্ধব ইউএনও এর আগে হাতিয়া উপজেলায় দেখা যায়নি।   যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসন ঃ  দীর্ঘদিনের জন দুর্ভোগ লাঘবে ইউএনও রাসেল ইকবাল যোগাযোগ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটিয়েছেন। তমরদ্দি ও সোনাদিয়া ইউনিয়নের মাঝে কাটাখালী খালের ওপর বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ১৬০ ফুট দীর্ঘ ও ৬ ফুট প্রশ্বস্ত একটি দৃষ্টিনন্দন কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, যা প্রায় ২৫ হাজার মানুষের ৫০ বছরের কষ্টের অবসান ঘটিয়েছে।  এছাড়া আজমার খালের ওপর কাঠের সেতু নির্মাণ করে চরকিং ও তমরদ্দি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সহজ করা হয়েছে। যা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের ছোঁয়াখালী খালের ওপর পুনঃ কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে এবং নিঝুম দ্বীপের শতফুল খালের ওপর থেকে অবৈধ বাঁধ অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন সুইচ বুড়ির দোনার একটি কপাট খুলে দেওয়া এবং পৌরসভার ময়লার স্তূপ অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ঃ জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত জোরালো। ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে রাসেল নামের এক যুবকের চোখ অন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে, নিজেরা এক দিনের বেতন থেকে ১ লাখ টাকা প্রদান করে তাঁর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, জলাতঙ্ক রোধে বেওয়ারিশ কুকুরকে রেভিস ভ্যাকসিন প্রদান, এবং ২৪ ঘণ্টা বা রাত্রিকালীন ফার্মেসি খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ টি সিলিং ফ্যান সরবরাহ করে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে প্রবেশপথে যানজট নিরসনে কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে পড়ালেখার গুণগত মান অক্ষুন্ন রাখার চেষ্টা করেছেন। জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রহস্যজনক অজ্ঞান হওয়ার ঘটনা রোধে বিদ্যালয়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বন্ধ করতে উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।  বাজার মনিটরিং ও জনহিতকর বিভিন্ন কার্যক্রম ঃ  উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন এলাকায় যানজট নিরসনে তিনি অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি নদী পথে নৌযানে যাত্রী হয়রানি বন্ধ করা ও ন্যায্য ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সরকারের নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি গ্যাস, ইউরিয়া সার ও জ্বালানি তেল বিক্রির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। আফাজিয়া বাজারের ফুটপাত উদ্ধার করে সলিং করে চলাচলের সুব্যবস্থা করা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ করা হয়েছে। বর্ষার দিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পানি বন্দী পরিবারের মাঝে ত্রাণ ও খাবার পৌঁছে দিয়েছেন ইউএনও। খালের যত্রতত্র জাল বসানো বন্ধ করা, চর আতাউরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে ভূমিহীনদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, গরিব ও দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, এবং নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের সাফল্য অর্জনে ভূমিকা রাখা ছাড়াও তিনি অসংখ্য জনহিতকর কাজ করেছেন। তমরদ্দি খাল পরিষ্কার করে সেখানে শাপলা ফুলের চাষ করার মতো সৌন্দর্যবর্ধনমূলক উদ্যোগও তিনি নিয়েছেন।

দ্বীপবাসীর মতে, এমন দক্ষ, সৎ, কর্মঠ ও উদীয়মান কর্মকর্তার সুদীপ্ত পদচারণায় হাতিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত হয়েছে। জনবান্ধব এই কর্মকর্তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগগুলো পুরো এলাকায় এক ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে