পুঠিয়ায় ভেজাল সারে সয়লাব

এফএনএস (কে এম রেজা; পুঠিয়া, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
পুঠিয়ায় ভেজাল সারে সয়লাব

রাজশাহীর পুঠিয়ায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও গাফিলতি থাকার কারণে উপজেলা জুড়ে ব্যাপকহারে ভেজাল সার কেনাবেচা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের বালিয়াঘাটা সোনারপাড়া গ্রামের একটি গুদামে জমাট বাধা ৫৫৩ বস্তা ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি)জমাট বাধা সার ভাঙার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছিল। ভিড়িও দেখে এলাকাবাসীরা গুদামটি ঘিরে রেখে ছিল। পরে খবর পেয়ে শনিবার রাতে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) প্রসনজিৎ সাহা তাঁর উপস্থিতিতে গুদামে তালা খোলা হয় এবং সেখান হতে ৫৫৩ বস্তা টিএসটি সার পাওয়া যায়। উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে রোববার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান ঘটনা স্থানে উপস্থিত হয়ে বলেন, এই সারের কার্যকারিতা সঠিক আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করার জন্য রাসায়নিক পরীক্ষা করার প্রায়োজন রয়েছে। যদি সারের সঠিক মান থাকে,তাহলে সরকারি বিধান অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বর্তমানে সারগুলো বানেশ্বর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের জিম্মায় রয়েছে। বানেশ্বর বাজারের একাধিক স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, বানেশ্বর বাজার এলাকায় বেশ কয়েকটি সার সিন্ডিকেট করে রাখা ব্যক্তিদের গুদামে শতশত বস্তা ভেজাল সার মজুদ করে রেখেছেন। ফসলের জমিতে সার দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সার কৃষকরা পাচ্ছিন না।  এই সুযোগে কিছু অসৎ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন স্থান হতে জমাট বাধা, মানহীন নষ্ট সার বানেশ্বর বাজার এলাকায় রাতের আধারে গুদামে এনে রাখছেন। পরে সুযোগ বুঝে বস্তা ভর্তি করে চড়া দামে সার ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে বাজারে বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। বানেশ্বর বাজারের একটি সূত্র জানায়, ভেজাল সার প্রক্রিয়া করার বিষয়গুলো বানেশ্বর ইউনিয়ন উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে ভেজাল সার বিক্রির একটি অংশ উপঢোক দিয়ে এই ব্যবসা করে আসছেন তারা। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে বিসিআইসি সার ডিলার রয়েছে ৮টি। আার বিএডিসি সার ডিলার রয়েছে ১৩টি। পাচঁটি ইউনিয়ন এলাকায় সাব-ডিলার খুচরা বিক্রেতা রয়েছে ৬৩টি। কৃষকরা সরকারি বাজার মূল্য অনুযায়ী সার কিনতে পাচ্ছেন না। কৃষকদের অভিযোগ যে সার এমুহূর্তে ফসলে দেওয়ার বেশি প্রয়োজন রয়েছে। সে সারগুলো কৃষকরা পাচ্ছে না। কিন্তু বেশি দাম দিলে পর্যাপ্ত পরিমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, গুদামের মালিক মাইনুল ইসলাম আমাদের সার ডিলার না। তার সার বিক্রির করার কোনো অনুমতি নেই।    

   এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান যুগান্তরকে বলেন, আমরা প্রাথমিক ভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, সারগুলো নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা বেশি রয়েছে। তারপরও আমারা রাসায়নিক পরীক্ষা করার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েেেছ। অনুমতি ছাড়া সার গুদামে রাখার দায়ে গুদাম মালিক মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে