পুলিশের যানবাহন কেনায় চাই স্বচ্ছতা

সম্পাদকীয় | প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
পুলিশের যানবাহন কেনায় চাই স্বচ্ছতা

পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত যানবাহন থাকা জরুরি। এ প্রয়োজন বিবেচনায় ৬ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ হাজার ৮৩০টি যানবাহন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পুলিশের বহু যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, পুরোনো গাড়ি বিকল হয়ে পড়া এবং প্রয়োজনের তুলনায় যানবাহনের ঘাটতি থাকায় নতুন গাড়ি কেনার যৌক্তিকতা রয়েছে। তবে বিপুল অর্থ ব্যয়ে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রস্তাবিত দুটি প্রকল্পে পিকআপ, জিপ, বাস, অ্যাম্বুলেন্স, প্রিজন ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের সাধারণ ও বিশেষায়িত যানবাহন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু যানবাহনের সংখ্যার দিকে তাকালেই চলবে না, প্রতিটি গাড়ির প্রয়োজনীয়তা, বাজারদর এবং নির্ধারিত মূল্য যৌক্তিক কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র, নিরপেক্ষ মূল্যায়ন এবং ক্রয়প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে অনিয়ম, কমিশন-বাণিজ্য কিংবা অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকতে হবে।

এ ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ। গাড়ি কেনার সময় বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও যথাযথ পরিচর্যার অভাবে অনেক যানবাহন অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে সরকারি অর্থের অপচয় হয় এবং পুলিশের কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। নতুন যানবাহন কেনার পাশাপাশি জ্বালানি, নিয়মিত সার্ভিসিং, যন্ত্রাংশ, মেরামত ও চালকদের প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট রাখতে হবে। প্রতিটি গাড়ির ব্যবহার, মেরামত ও জ্বালানি ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ এবং নিয়মিত নিরীক্ষার ব্যবস্থাও জরুরি।

সরকারকে মনে রাখতে হবে, যানবাহন কেনাই প্রকল্পের সাফল্য নয়; সেগুলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। প্রয়োজনের অতিরিক্ত গাড়ি কেনা কিংবা অব্যবস্থাপনায় গাড়ি পড়ে থাকার সুযোগ থাকা উচিত নয়। প্রকল্প অনুমোদনের আগে সম্ভাব্য পরিচালন ব্যয় ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা বাস্তবসম্মতভাবে যাচাই করতে হবে।

জনগণের করের টাকায় কেনা প্রতিটি যানবাহন যেন জনসেবায় কাজে লাগে, সেটিই প্রত্যাশা। তাই ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করেই এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে।