যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশসহ পৃথিবীতে জ্বালানি সংকট রয়েছে। সেই জ্বালানি সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে, তার পরামর্শ নিয়ে বায়োগ্যাস প্লান্টকে দেশের তৃণমূলের প্রতিটি ঘরে স্থাপন করতে চাই। আমরা বিশ্বাস করছি আগামীর বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট বায়োগ্যাসের মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল তিনটায় বরিশাল নগরীর হরিনাফুলিয়া এলাকায় বায়োগ্যাস প্লান্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেছেন, পরিবেশ বান্ধব বায়োগ্যাস প্লান্ট নির্মাণ করে সরকার ১৫ হাজার সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতোমধ্যে ১২ হাজার সংযোগ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। যা জাতীয় যুব দিবসে রাষ্ট্রপতি উদ্বোধন করবেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য দেশের প্রতিটিস্থানে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন হোক। আর এই প্লান্টের মাধ্যমে উৎপাদিত গ্যাস সরাসরি রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে যেমন ব্যবহার করতে পারবেন, তেমনি আমরা এখান থেকে নতুনভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিকল্পনাও নিয়েছি। এটির জন্য একটি বুকলেট তৈরি করছি, যেখানে বিস্তারিত লেখা থাকবে সার্বিক বিষয়ে।
তিনি বলেন, বরিশাল অঞ্চলে ৮১টি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। যা কেউ নিজের উদ্যোগে করেছেন, আবার কেউ ঋণ নিয়ে করেছেন। এখানে দেখলাম সবাই গরুর গোবর থেকে করেছেন। তবে অনেকেই খামারে হাঁস-মুরগিও পালন করেন। আর এই হাঁস-মুরগির বিষ্টা বা বর্জ্য থেকে যদি গ্যাস উৎপাদন করতে পারেন, কারণ গরুর গোবরের থেকে হাঁস-মুরগির বিষ্টা থেকে বেশি গ্যাস উৎপাদন সম্ভব।
তিনি বলেন, তিনটি গরু হলেই একটি বায়োগ্যাস প্লান্ট বানানো সম্ভব। পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাসে কোনো ধোয়া হয় না, এটি দিয়ে সুন্দরভাবে রান্নার কাজ করতে পারবেন। পাশাপাশি যেখানে বায়োগ্যাস প্লান্ট থাকে সেখানে মশামাছিও আসে না। আর বায়োগ্যাস শুধু নিজের ব্যবহারের জন্য নয়, বাণিজ্যিকভাবেও ব্যবহার করা সম্ভব হয়। অনেক জায়গাতে প্রতি সংযোগে ১ হাজার কিংবা ১৫ শত টাকা দেওয়ার খবর আমাদের কাছে আছে। এক্ষেত্রে বাণিজ্যিকভাবে দিলে প্রতিমাসে ভালো আয় করাও সম্ভব। এছাড়া বায়োগ্যাস প্লান্টের মাধ্যমে উৎপাদিত জৈব সার মাটির জন্য অত্যন্ত উপকারী। যা নিজেরা ব্যবহারের পাশাপাশি বিক্রি করাও সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বায়োগ্যাস প্লান্ট একবার ভালোভাবে তৈরি হলে চল্লিশ বছর এর সুবিধা একটানা নিতে পারবেন, কোনো অসুবিধা হবে না। প্লান্ট অনেকেই নিজ অর্থায়নে করছেন, আবার অনেকে ঋণ নিয়ে করছেন। সেক্ষেত্রে ১ লাখ কিংবা ৫ লাখ নয়, প্রয়োজনে ১০ লাখ টাকার বেশি ঋণ দিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। লেনদেন ভালো হলে ঋণের পরিমাণ তত বেশি বাড়িতে দেওয়া সম্ভব হবে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই কর্মসূচিতে যুবদের মাঝে চেক বিতরণ করেছেন প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।