সারে অব্যবস্থাপনা

কৃষির ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে

এফএনএস | প্রকাশ: ২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
কৃষির ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে

কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি, অথচ সেই খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সার নিয়েই প্রায়ই সংকট ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, সারের ভর্তুকি বাবদ সরকারের বিপুল অর্থ বকেয়া থাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। এর ফলে নতুন করে সার আমদানির অর্থায়ন ও ঋণপত্র খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি শুধু একটি আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে দেশের খাদ্য উৎপাদন, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় এবং সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা সরাসরি জড়িত। উদ্বেগের বিষয় হলো, সরকারি হিসাবে সারের মজুত ও সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও মাঠপর্যায়ে কৃষকের অসন্তোষ কমছে না। বিভিন্ন এলাকায় বেশি দামে সার বিক্রি, সরবরাহে অনিয়ম এবং ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ সামনে আসছে। ফলে বোঝা যায়, সমস্যা শুধু উৎপাদন বা আমদানির নয়; বণ্টন ও তদারকি ব্যবস্থার মধ্যেও দুর্বলতা রয়েছে। কৃষকের হাতে সময়মতো এবং নির্ধারিত মূল্যে সার না পৌঁছালে পর্যাপ্ত মজুত থাকার তথ্যও অর্থহীন হয়ে পড়ে। কৃষি খাতে নীতিগত সাফল্যের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে তখনই, যখন একজন কৃষক মৌসুমের প্রয়োজনীয় সময়ে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই সার সংগ্রহ করতে পারবেন। এ অবস্থায় সার আমদানিনির্ভরতা কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, ডলারের বিনিময় হার এবং পরিবহন ব্যয় যেকোনো সময় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। তাই বন্ধ সার কারখানা পুনরায় চালু করা, বিদ্যমান কারখানার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে ভর্তুকির অর্থ সময়মতো পরিশোধ, সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। কারণ কৃষকের জন্য সারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা শুধু কৃষি খাতের বিষয় নয়, এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও পূর্বশর্ত। আমরা আশা করি, সরকার দ্রুত এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।