আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও আদালতে হাজির হননি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শাকিল আলম বুলবুল। বিচারকার্যে বাধাদানের অভিযোগে দায়ের হওয়া আদালত অবমাননার মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে বৃহস্পতিবার (১৯ জুন)।
মঙ্গলবার (৩ জুন) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি এম তাজুল ইসলাম শুনানিতে জানান, আসামিদের হাজির হওয়ার জন্য গত ২৫ মে দুইটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরদিনই দৈনিক যুগান্তর ও ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সেখানে শেখ হাসিনাকে ৩ জুন সকাল ১০টায় স্বশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্দেশনা সত্ত্বেও তাঁরা কেউই হাজির হননি, এমনকি কোনো আইনজীবীর মাধ্যমেও কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
এর আগে, চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল শেখ হাসিনা ও শাকিল আলম বুলবুলের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। অভিযোগে বলা হয়, ভারত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিফোনে বিচারকাজকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন তাঁরা। বিশেষ করে, গাইবান্ধার এক স্থানীয় নেতার সঙ্গে শেখ হাসিনার কথিত অডিও কথোপকথন, যেখানে তিনি বলেন, "আমার বিরুদ্ধে ২২৭টি মামলা হয়েছে, তাই ২২৭ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি", এটি আদালতের মর্যাদাকে হেয় করেছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় অডিওর সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
এই অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল ১৫ মে’র মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দেওয়ায় ২৫ মে তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তাও পালন না করায় ২৬ মে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাইব্যুনাল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ১১ ধারায় আদালত অবমাননার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রসিকিউশনের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে শেখ হাসিনা আইনের প্রতি যে অবজ্ঞা দেখিয়েছেন, তা বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে চরমভাবে ক্ষুন্ন করে। ট্রাইব্যুনাল এখন আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে রায় দিতে পারবে।