চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলে দেশি প্রজাতির মাছের সর্বনাশ করছে চায়নাদুয়ারি,কারেন্ট আর বাদাই জাল। এ অঞ্চলের নদ-নদী,খাল-বিলে চায়না দুয়ারি জালের অবাধ ব্যবহার চলছে। এ জাল যেন বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বিলগুলোতে। সমানতালে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও বাদাই জাল।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,চাটমোহর উপজেলার ডিকশি বিল,বগা বিল,বোয়ালিয়া-দিয়ারপাড়া বিল,খলিশাগাড়ি বিল,ধানবিলা বিল,আফরার বিল,হান্ডিয়াল,সমাজ বিল,আনকুটিয়া বিল,বিল কুড়ালিয়াসহ বিভিন্ন ও জলাশয়ে এসব জাল দিয়ে যেন মাছ শিকারের মহোৎসব চলছে। একইসাথে উপজেলা হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে হাজার হাজার মিটার কারেন্ট জাল। দলবদ্ধভাবে বাদাই জাল দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে প্রকাশ্যে। চায়না দুয়ারি জালের অবাধ ব্যবহার এ অঞ্চলের দেশি মাছ ধ্বংস হচ্ছে। বিপন্ন হচ্ছে প্রকৃতি ও পরিবেশ।
চলতি মৌসুমের শুরুতে চাটমোহর উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তর দেশি মাছ ও জীব,প্রকৃতি রক্ষায় চায়নাদুয়ারি জালের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে কোটি টাকার জাল জব্দ করে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ফেলা হয়। চাটমোহর উপজেলা প্রশাসন সোঁতিবাঁধের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে। কিন্তু তারপরও থেমে নেই নিষিদ্ধ এসকল জালের অবাধ ব্যবহার। এমন কোন বিল-জলাশয় নেই,যেখানে চায়না দুয়ারি,কারেন্ট জাল ব্যবহার করা হচ্ছেনা। শুধু তাই নয়,সরকারিভাবে চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন জলাশয়ে নাকি ৫০০ কেজি কার্প জাতীয় মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। যেসব জলাশয়ে এ মাছ ছাড়া হয়েছে,সেখানেই এসব জাল দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে।
চাটমোহর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মতিন জানান,চায়নাদুয়ারিসহ নিষিদ্ধ সকল জালের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশি মাছ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।