কচাকাটায় শোকের দিনে খাসি দিয়ে ভুরিভোজ

এফএনএস (হাফিজুর রহমান হৃদয়; নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম) :
| আপডেট: ২ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম | প্রকাশ: ২ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
কচাকাটায় শোকের দিনে খাসি দিয়ে ভুরিভোজ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের মৃত্যুতে তিন দিনের শোক ঘোষনা করে সরকার। এ সময় আনন্দ উৎসবসহ ইংরেজি নববর্ষ উৎযাপন ও সীমিত করে সারাদেশের মানুষ। সেখানে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার ওসি সোয়েল রানা খাসি জবাই দিয়ে ভুরিভোজের আয়োজন করেন। এই আয়োজনের খন্ডচিত্র থানার এসআই ও কনষ্টেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারও করেন। থানার এসআই ফাইসাল তার ফেসবুক প্রফাইলে খাসি কাটার একটি ছবি দিয়ে লিখেছেন ২০২৬ সালকে বরণ করতে প্রস্তুতি চলছে। অন্য একটি ছবিতে থানার ওসি ও এসআই ইব্রাহিমের খাবার দৃশ্যের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন কচাকাটা থানার অফিসার্স ইনচার্জ মহোদয়। এছাড়া আরোও একজন কনষ্টেবলকে একই ধরণের পোস্ট দিতে দেখা যায়। থানার এমন কান্ডে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে আলোচনার ঝড় উঠেছে। এছাড়া একই রাতে স্থানীয় জাতীয় পার্টির ১৫/২০ নেতাকর্মীর সাথে ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা ও মিষ্টি উপভোগ করেছেন ওসি। জানা যায়, স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ৫ কেজি মিষ্টি নিয়ে ওসির সাথে দেখা করতে আসেন। সেই মিষ্টি উৎসব করে বিতরণ করা হয়। এ নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা থানায় গিয়ে প্রতিবাদ করেন। বল্লভেরখাষ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মাইদুল ইসলাম জানান, কচাকাটা থানায় খাসি মেরে ভুরিভোজ ও মিষ্টি বিতরণ করে রাষ্ট্রিয় শোক দিবসে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন করায় আমরা মর্মাহত। আমারা এ খবর পেয়ে ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চার ইউনিয়নের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা থানায় গিয়ে প্রতিবাদ করেছি। জাতীয় পার্টির কচাকাটা ইউনিয়নের নেতা ওই উনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহাদৎ হোসেন মণ্ডল জানান, জাতীয় পার্টির প্রার্থীর গণসংযোগ আছে। সেই বিষয়ে ওসিকে অবহিত করতে আমরা গিয়েছিলাম। এ সময় বলদিয়া ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির নেতা ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক কয়েক কেজি মিষ্টি নিয়ে আসছিলেন। বিএনপির কেদার ইউনিয়নের সাবেক সাধারন সম্পাদক আনিছুর রহমান তোলা ব্যাপারী জানান, দেশ নেত্রীকে হারিয়ে সারাদেশের মানুষ যখন বেদনাতুর তখন কচাকাটা থানায় ওসি ও থানার সকল অফিসার ও কনষ্টেবল ভুরিভোজ ও মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ উৎসব করেন। এ বিষয়ে আমরা তিব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। এছাড়া এ থানার সকল অফিসার অর্থ লেন দেনের মাধ্যমে ফ্যাসিষ্টদের পূনর্বাসন করছে। এ বিষয়ে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে অবহিত করলেও আমরা এর প্রতিকার চাই। কচাকাটা থানার ওসি সোয়েল রানা জানান, থানায় কোন পার্টি বা ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়নি। আমাদের ম্যাসের প্রতিমাসের শেষ দিন এমন খাওয়ার আয়োজন করা হয়ে থাকে। থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে কোন আয়োজন করা হয়নি। সহকারী পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী-কচাকাটা সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে