বাউফলে চাল সংগ্রহে অনিয়ম

বন্ধ মিল সচল দেখিয়ে চাল কিনছেন খাদ্য গুদাম

এফএনএস (কাজল বরণ দাস; পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:১৬ এএম
বন্ধ মিল সচল দেখিয়ে চাল কিনছেন খাদ্য গুদাম

পটুয়াখালীর বাউফলে  দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা একাধিক চালকল কাগজে কলমে সচল দেখিয়ে  চাল সংগ্রহ করে আসছে সরকারি খাদ্য গুদাম। অভিযোগ রয়েছে- সরকারি  নীতিমালা উপেক্ষা  খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে একটি চক্র বাহির থেকে নিম্ন মানের চাল গুদামে সরবরাহ করে আসছে। এভাবেই লোপাট হয়ে যাচ্ছে সরকারি অর্থ। উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার বগা ও কালাইয়া খাদ্য গুদামের জন্য প্রথম দফায় ৭ কোটি  ৬৫ লাখ টাকায় ১৫শ ৩০ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে কালাইয়া খাদ্যগুদামের জন্য ৫শ ৫০ মেট্রিকটন ও  বগা খাদ্য গুদামের জন্য ৯শ ৮০ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহের কথা রয়েছে। প্রতি কেজী চালের দাম ধরা হয় ৫০ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী মিল মালিকরা স্থানীয় বাজার থেকে ধান সংগ্রহ করে নিজ চালকলে প্রক্রিয়াজাত করে গুদামে উৎকৃষ্ট মানের চাল সরবারহ করবেন। বগা খাদ্য গুদামের চাল সংগ্রহের জন্য সোনাই অটো রাইস মিল এবং  কালাইয়া খাদ্য গুদামের জন্য চাল সংগ্রহের জন্য সিকদার অটো রাইস মিল, সুচিত্রা রাইস মিল, হিরোন বালা রাইস মিল ও মের্সাস প্যাদা রাইস মিলের সাথে চুক্তি হয়। তালিকাবদ্ধ চালকল গুলোর মধ্যে তিনটি চাতাল কয়েক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। অথচ কাগজে-কলমে এসব চালকল থেকেই চাল সরবরাহ দেখানো হচ্ছে। সরজমিনে দেখা গেছে, সোনাই ও সিকদার অটো রাইস মিল বাদে বাকী তিনটি চালকলই বন্ধ রয়েছে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ধান ভাঙানো, সিদ্ধকরণ বা শুকানোর কোনো কার্যক্রম নেই। অনেক চালকলের  যন্ত্রপাতিতে মরিচিকা পড়ে নষ্ট হয়ে  আছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  চলতি মৌসুমে  চুক্তিবদ্ধ সুচিত্রা রাইস মিল গুদামে ২৬ টন চাল সরবারহ করেছে। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কয়েক বছর ধরে সুচিত্রা চালকল বন্ধ রয়েছে। সুচিত্রার  মালিক রমেশ সাহা  জেলার বাহির থেকে নিম্ন মানের চাল কিনে এনে গুদামে সরবারহ করেছেন। যদিও কাগজে কলমে  নিজস্ব মিল থেকে চাল সরবরাহ দেখানো হয়েছে। এ বিষয়ে রমেশ সাহার কাছে জানতে চাইলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে নিউজ না করার জন্য সাংবাদিক ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। বড়ডালিমা এলাকায় সুচিত্রা রাইস মিলের পাশেই রয়েছে হিরোনবালা রাইস মিল। সেটিও বন্ধ। যদিও বন্ধ মিলের নামে বরাদ্দ হয়ে ৫২ টন চাল। বন্ধ মিল থেকে কিভাবে চাল সরবরাহ করা হবে সে বিষয়ে জানতে চাইলে হিরোনবালার মালিক শঙ্কর দাসও বাহির থেকে চাল কিনে সরবরাহ করবেন বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সবাই কিনে চাল সরবরাহ করে। অফিসের সবাইকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেই চাল সরবরাহ করে থাকি।  একই এলাকায় প্যাদা রাইস মিলও কয়েক বছর ধরে বন্ধ।  প্যাদা রাইস মিলের মালিক রশিদ প্যাদাও বাহির থেকে চাল কিনে চাল সরবরাহ করবেন। চুক্তিপত্র অনুযায়ী মিলার চালের আর্দ্রতা ১৪ শতাংশ, ভাঙা দানা, লাল ও  মরা দানা মুক্ত চাল সংগ্রহ করা হবে। তবে গুদামে গিয়ে দেখা যায় চালের আর্দ্রতা কম বেশি রয়েছে। চালের মধ্যে ভাঙা দানা, মরা দানা ও লাল দানার পরিমাণ অনেক বেশি। এসব চাল দীর্ঘ মেয়াদে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন গুদাম সংশ্লিষ্টরা। এবিষয়ে কালাইয়া খাদ্য গুদামের  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবালুল রহমান সাংবাদিকদের কাছে অনিয়মের কথা স্বীকার করেন। পরে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য ম্যানেজ করারও চেষ্টা করেন। এবিষয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. নুরুল্লাহ্ বলেন, আমরা যখন চুক্তিবদ্ধ হই তখন চালকল গুলো চালু ছিল। এখন বন্ধ থাকলে আমাদের কি করার কিছু নাই।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে