ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার ও শুভাকাঙ্খিদের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভূইয়া ওরফে ব্যারিস্টার ফুয়াদ। তিনি রোববার রাত ১০টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে এই ভিডিও বার্তা দেন। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে নির্বাচন করছেন ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। ইতোমধ্যে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে বরিশাল জেলা রিটার্নিং অফিসার। মনোনয়ন দাখিলের আগে তিনি এবং তার কর্মী সমর্থকেরা নির্বাচনি এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেছিলেন। ব্যারিস্টার ফুয়াদ ভিডিওতে নির্বাচন পরিচালনায় আর্থিক সহযোগিতা ও দোয়ার জন্য এলাকাবাসীসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার রাতে তার ফেসবুক আইডিতে আপলোড করা ভিডিওতে তিনি বলেন, 'বরিশাল ৩ আসন বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলার প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক এই আসনে নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনা করা ব্যয়বহুল ও চ্যালেঞ্জিং। জনসংযোগ, যাতায়াত ও প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে নিতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা জরুরি হয়ে পড়েছে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য টাকা দরকার। কিন্তু আমার এত টাকা নেই, আয়ও নেই।' ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর জুলাই সনদের ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লড়াই চলমান। এই সংগ্রাম শত শত শহীদের রেখে যাওয়া আমানত। শহীদ ওসমান হাদির দায় ও দরদের বাংলাদেশ গড়তে ইনসাফ ও আজাদীর পথে সবাইকে একসাথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। জনতার টাকায় জনমুখী রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় যারা আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য বিকাশ ও নগদ নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব প্রকাশ করা হয় ওই ফেসবুক পোস্টে। অপর দিকে ব্যারিস্টার ফুয়াদের এ ধরনের প্রচারণায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান অনেক সাধারণ আইনজীবী আইন পেশায় শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বরিশালের আদালতে আইন চর্চা করেন এমন অসংখ্য আইনজীবী শতকোটি কিংবা অর্ধ শত কোটি টাকার মালিক। অথচ ব্যারিস্টার ফুয়াদ একজন স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব। আইন পেশার পাশাপাশি রাজনীতিতেও ব্যাপক আলোচিত ব্যক্তিত্ব। তার টাকা চেয়ে পোস্ট করা বেমানান। তবে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। মুলাদী উপজেলার চরকালেখান নোমরহাট এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, অনেক ছাত্রনেতা অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হলেও নিজের অর্থনৈতিক দুর্বলতা প্রকাশ করে ব্যারিস্টার ফুয়াদ প্রশংসিত কাজ করেছেন। তার ফেসবুকে দেওয়া এমন বক্তব্য তার সততার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে হচ্ছে।এছাড়া সাধারণ মানুষের টাকায় এমপি হলে তিনি জনগনের কাছে বেশি দায়বদ্ধ থাকবেন।