ঝাড়ফুঁক ও তন্ত্রমন্ত্রের নামে ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীতে। কবিরাজি চিকিৎসার আড়ালে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে পাঁচ দিন আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে গ্রাম্য কবিরাজসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হাজীখালী গ্রামে।ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় দায়ের করা মামলার বিবরণ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী মাদ্রাসায় ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার এক সহপাঠী রুমানা পরিবারকে জানায়-তার বাবা গ্রাম্য কবিরাজ মালেক বাদশা বদ-জ্বীন ও উপরী লক্ষণ ছাড়িয়ে রোগী সুস্থ করতে পারেন। এই কথায় বিশ্বাস করে কিশোরীকে কবিরাজের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে ভুক্তভোগীর মাকে জানানো হয়, মেয়েটিকে সম্পূর্ণ সুস্থ করতে হলে কয়েকদিন কবিরাজের বাড়িতে রেখে তন্ত্রমন্ত্র ও ঝাড়ফুঁক দিতে হবে। অভিযুক্ত কবিরাজ ও তার পরিবারের ওপর সরল বিশ্বাসে মেয়েকে সেখানে রেখে বাড়ি ফিরে যান মা। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ঝাড়ফুঁকের অজুহাতে কিশোরীকে গোসল করিয়ে বিবস্ত্র অবস্থায় কবিরাজের শয়নকক্ষে রাখা হয়। এরপর পাঁচ দিন তাকে সেখানে আটকে রেখে তন্ত্রমন্ত্র ও চিকিৎসার নামে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। ভয় ও আতঙ্কে কিশোরী প্রথমে কাউকে কিছু জানাতে পারেনি। একপর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই সে পরিবারের সদস্যদের কাছে তার ওপর ঘটে যাওয়া পাশবিক নির্যাতনের বর্ণনা দেয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর মা থানায় গিয়ে কবিরাজ মালেক বাদশাসহ চারজনকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার এক নম্বর আসামি গ্রাম্য কবিরাজ মালেক বাদশাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জেল নয়, এই নরপিশাচের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক যেন ভবিষ্যতে কোনো ভণ্ড কবিরাজ এমন সাহস না পায়।