বিএনপি-জামায়াত দ্বিমূখী লড়াই

দিনাজপুর-৪ আসনে প্রচারণা তুঙ্গে

এফএনএস (মোরশেদ-উল-আলম; চিরিরবন্দর, দিনাজপুর) : | প্রকাশ: ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
দিনাজপুর-৪ আসনে প্রচারণা তুঙ্গে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর ৪ আসনে প্রার্থীদের প্রচারণা তুঙ্গে। শেষ মুহুর্তে জোরালো ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে নিজ নিজ দলের নেতা কর্মী ও সমর্থকরা। সকাল হতে রাত প্রায় ১২ টা পর্যন্ত সকল বাজারের হোটেল, দোকানপাটে সরব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলো নির্বাচনী আলোচনা। রাস্তাঘাটে চলাচলকারী ভ্যান, অটো চার্জার, অটো রিক্সায় যাত্রীরাও আসন্ন ভোট নিয়ে আলোচনা করছেন। এ আসনে চিরিরবন্দর উপজেলায় ১২ টি ইউনিয়ন ও খানসামা উপজেলায় ৬ টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ৪ লক্ষ ২১ হাজার ২ শত ৭৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ১১ হাজার ৩ শত ৪ জন ও নারী ভোটার ২ লক্ষ ৯ হাজার ৯ শত ৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন।  বিভিন্ন হাট বাজার ও রাস্তাঘাটে ঘুরে জানা গেছে, বিএনপি ও জামায়াত সমানতালে নিজ নিজ কৌশল প্রয়োগ করে প্রচারণা চালাচ্ছে। এ আসনে বিএনপি বরাবরেই জামায়াতের তুলনায় একটু বেশি শক্তিশালী। এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া ২০০১ সালে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে জোটগত ভাবে নির্বাচন করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে হারিয়ে প্রথমবারের মত নির্বাচিত হয়ে এলাকায় জিয়া সেতু, সরকারি হাসপাতাল, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবন নির্মাণসহ অসংখ্য উন্নয়ন করে এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। গত ১৭ বছরে আদালত চত্বর থেকে শুরু করে সকল সময়ে নির্যাতিত, নিপীড়িত নেতাকর্মীর পাশে থাকায় গ্রহনযোগ্যতা পরিপুর্ণ করেছেন। তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও তৃণমুলে সর্বাধিক গ্রহনযোগ্যতা থাকায় কেন্দ্রীয় বিএনপি তাঁকে পুনরায় মনোনয়ন দেয়। মনোনয়ন বঞ্চিত দুজন নেতা ও তাদের কয়েকজন সমর্থক ছাড়া বাকি সকল নেতাকর্মী তাঁর সাথে একাট্টা হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। হিন্দু ভোটার ও আওয়ামীলীগের কর্মীরা স্বাধীনতা প্রশ্নে এবারে বিএনপিকে ভোট দিবে, এটা অনেকটা নিশ্চিত। এ আসনে ১৮ টি ইউনিয়নের অন্তত ১৩/১৪ টি ইউনিয়নে বিএনপির ব্যাপক প্রভাব থাকায় ভোটেও এগিয়ে থাকবে।  অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ আফতাব উদ্দিন মোল্লারও বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। দলটি দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে রাজনীতির সুযোগ না পেলেও ভেতরে ভেতরে শক্ত অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। তাদের রয়েছে নিদ্রিষ্ট ভোট ব্যাংক। বিগত নির্বাচনের ভোটসংখ্যার চেয়ে বর্তমানে তাদের ভোট বেশিই হবে। কয়েকজন অভিজ্ঞ ব্যাক্তি জানান, জামায়াতের ভোট বেড়েছে। তবে এখনও জয়ী হওয়ার মত পরিস্থিতি হয়নি। জামায়াতের কর্মীরা বিএনপির কর্মীর চেয়ে বেশি এ্যাকটিভ। জামায়াতের সকল নেতাকর্মী নিজেদের হাদিয়ার টাকা নির্বাচনী তহবিলে দেয়ার পরেও নিজের টাকা খরচ করে প্রচারণা চালাচ্ছে। জামায়াত প্রার্থী বিএনপির প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও সহায়তায় পরপর দুবার উপজেলা নির্বাচনে জয়লাভ করে নিজের গ্রহনযোগ্যতা একটা পক্ষের কাছে বাড়িয়ে নিয়েছেন। 


এছাড়াও বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হুসাইন নদভী সাধ্যমত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর প্রতিক হাতপাখা। আলেম, ঈমামসহ ইসলাম ধর্মীয় লোকজনের একটা অংশ তাঁর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। তিনি প্রথমবারের মত প্রার্থী হওয়ায় এখনও তেমন পরিচিতি পাননি। 

জাতীয় পাটির লাঙ্গল প্রতিকের প্রার্থী মোঃ নুরুল আমিন শাহ পুর্বে ২ বার ইউপি সদস্য থাকলেও সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচনী মাঠে লড়ছেন। তবে জাতীয় পাটির তেমন ইমেজ নাই। বিগত ২০০১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পাটির ১০ সহস্রাধিক ভোট থাকলেও এখন তেমনটা নাই। জাতীয় পাটির প্রার্থীও তাঁর সাধ্যমত প্রচারণা চালাচ্ছেন।  একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত কেউ কাউকে ছাড় দিবেনা। ছোট খাটো বিষয়েও তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরী হতে পারে। এটি সংঘর্ষেও রুপ নিতে পারে। অন্তত ১০/১২ টি কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতেও পারে। ওই কেন্দ্রগুলি বেশ ঝুঁকিপুর্ণ। প্রশাসনও বেশ নজর রাখবে ওই কেন্দ্রগুলিতে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে এ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই দ্বিমূখী লড়াই হবে।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার ফাতেহা তুজ জোহরা বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন হতে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। যেকোন মুল্যে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করা হবে। যারাই নির্বাচন বানচাল বা অপ্রীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধেই কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, আনসারসহ ব্যাপক সংখ্যক অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি লাগানো হয়েছে। এছাড়াও বডি ক্যামেরা থাকবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে