কুখ্যাত মার্কিন যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিন (Jeffrey Epstein)–কে ঘিরে যৌন পাচার সংক্রান্ত দুই দফা ফেডারেল তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত হাজার হাজার নথিই এখন বিশ্বজুড়ে “এপস্টাইন ফাইলস” নামে পরিচিত। এসব নথিতে রয়েছে ভ্রমণ লগ, ইমেইল, ফোন রেকর্ড, সাক্ষ্যবিবরণী, অডিও রেকর্ডিং এবং তদন্ত সংস্থার অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট। ২০১৯ সালে এপস্টাইনের মৃত্যুর পর থেকেই এসব নথি প্রকাশের দাবি রাজনৈতিক অঙ্গন, গণমাধ্যম ও জনমনে আলোড়ন তোলে।
এই ফাইলস এত আলোচনায় আসার মূল কারণ হলো, এতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। রাজনীতিক, ধনকুবের, শিল্পী, বিজ্ঞানী ও কূটনীতিকদের সঙ্গে এপস্টাইনের যোগাযোগের বিস্তৃত তথ্য সেখানে পাওয়া যায়। নথিতে নাম থাকলেই যে কেউ অপরাধে জড়িত, এমন নয়, তবে এত বড় পরিসরের প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই জনমনে কৌতূহল ও সন্দেহ তৈরি হয়।
২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি কারাগারে এপস্টাইনের মৃত্যুর পর সরকারিভাবে একে আত্মহত্যা বলা হলেও অনেকেই তা বিশ্বাস করেননি। ফলে প্রশ্ন ওঠে, তাঁর মৃত্যুর পেছনে কী ছিল, কারা তাঁর সহযোগী ছিলেন, কারা তাঁর সুবিধাভোগী ছিলেন। বিশেষ করে তাঁর মালিকানাধীন লিটল সেন্ট জেমস আইল্যান্ড এবং নিউ মেক্সিকোর জোরো র্যাঞ্চ কী ধরনের কার্যক্রম চলত, তা জানার আগ্রহ বাড়তে থাকে।
আইন পাস ও নথি প্রকাশ
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট পাস করে। ১৮ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার প্রতিনিধি পরিষদ ৪২৭-১ ভোটে বিলটি অনুমোদন দেয়। পরে সিনেটও অনুমোদন দেয় এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) আইনে স্বাক্ষর করেন।
১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ প্রথম দফায় কয়েক লাখ নথি প্রকাশ করে। এতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন (Bill Clinton)–এর কিছু অপ্রকাশিত ছবি ছিল, তবে অধিকাংশ অংশ কালো করে দেওয়া হয়। এতে ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এবং ভুক্তভোগীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার আরও প্রায় ৩০ হাজার পৃষ্ঠা প্রকাশ করা হয়। সেখানে ১৯৯০-এর দশকে ট্রাম্পের এপস্টাইনের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণের উল্লেখ ছিল বলে জানানো হয়। এরপর ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার বিচার বিভাগ প্রায় ৩০ লাখ অতিরিক্ত নথি প্রকাশ করে এবং জানায়, এটিই হবে শেষ বড় আকারের প্রকাশ।
উত্থান, সম্পর্ক ও বিতর্ক
১৯৮০-এর দশকে ওয়াল স্ট্রিটে কাজের পর এপস্টাইন নিজস্ব আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। নিউইয়র্কে বড় বাসভবন ও মার্কিন ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে সম্পত্তির মালিক হয়ে তিনি প্রভাবশালী মহলে ওঠাবসা শুরু করেন। ট্রাম্প ও ক্লিনটনের পাশাপাশি সংগীতশিল্পী মাইকেল জ্যাকসন (Michael Jackson) এবং ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর (Andrew Mountbatten-Windsor)–এর সঙ্গেও তাঁর সামাজিক যোগাযোগ ছিল। প্রকাশিত নথিতে ট্রাম্প, ক্লিনটন বা জ্যাকসনের বিরুদ্ধে অবৈধ আচরণের প্রমাণ নেই। অ্যান্ড্রু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
২০০০ সালে ভার্জিনিয়া জিউফ্রে নামে এক কিশোরীর সঙ্গে এপস্টাইনের সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েলের যোগাযোগের বিষয়টি বড় বিতর্কে রূপ নেয়। ২০০২ সালে নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এপস্টাইনকে “চমৎকার মানুষ” বলে উল্লেখ করেছিলেন। পরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ২০০৩ সালে এপস্টাইনের ৫০তম জন্মদিনের অ্যালবামে ট্রাম্প শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন। ট্রাম্প তা অস্বীকার করেন এবং পত্রিকাটির বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২০২৫-এ এপস্টাইনের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ একটি সম্পাদিত সংস্করণ প্রকাশ করে, যেখানে ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মতো একটি স্বাক্ষর দেখা যায়। ট্রাম্প পুনরায় তা অস্বীকার করেন। বইটিতে বিল ক্লিনটন, ভেরা ওয়াং এবং অ্যালান ডারশোভিৎসের মতো ব্যক্তিরাও শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন।
বিতর্কিত দণ্ড ও মৃত্যু
২০০৫ সালে ফ্লোরিডার পাম বিচ পুলিশ কিশোরীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে। ২০০৮ সালে এপস্টাইন অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে দোষ স্বীকার করেন এবং ১৮ মাসের কারাদণ্ড পান, যদিও দিনে অফিসে যাওয়ার অনুমতি ছিল। ফেডারেল অভিযোগ এড়াতে একটি নন প্রসিকিউশন চুক্তি করা হয়, যা পরে ব্যাপক সমালোচিত হয়।
২০১৮ সালে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নতুন করে আলোচনায় আনে বিষয়টি। ৬ জুলাই ২০১৯ এপস্টাইন গ্রেপ্তার হন এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। ১০ আগস্ট ২০১৯ শনিবার তাঁকে কারাগারে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
নতুন নাম, নতুন বিতর্ক
সর্বশেষ নথি প্রকাশে ব্যবসা, রাজনীতি ও কূটনীতির বহু পরিচিত নাম উঠে আসে। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ কংগ্রেস সদস্য রো খান্না (Ro Khanna) প্রতিনিধি পরিষদে ছয়জনের নাম পড়েন। তাঁরা হলেন লেস ওয়েক্সনার, সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম, নিকোলা ক্যাপুটো, সালভাতোরে নুয়ারা, জুরাব মিকেলাদজে এবং লিওনিক লিওনভ।
এ ছাড়া নতুন নথিতে অ্যান্ড্রু, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জবাবদিহির আহ্বান, সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসন, গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন (Sergey Brin)–সহ নানা নাম উঠে আসে। বিচার বিভাগ বলেছে, “নথিতে নাম থাকার অর্থ এই নয় যে, ওই ব্যক্তি কোনো অপরাধে জড়িত।”এছাড়া, আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক ও মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গের নাম আছে শোনা গেলেও বিচার বিভাগ বা কংগ্রেসের প্রকাশিত নথিগুলোতে নামগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত বা লিপিবদ্ধ করা হয়নি।
যে ছয় নাম নিয়ে শোরগোল
এই ছয় ব্যক্তি কে তাঁরা, এবং কীভাবে তাঁদের নাম জড়াল এপস্টাইনের সঙ্গে? সংবাদমূলক সূত্র এবং প্রকাশিত নথি বিশ্লেষণ করে যা জানা গেছে:
লেসলি ওয়েক্সনার (Les Wexner) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন খ্যাতনামা ধনকুবের ও ব্যবসায়ী। তিনি ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট-এর মূল কোম্পানি এল ব্র্যান্ডসের প্রতিষ্ঠাতা। দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন ছিল, এপস্টাইন ওয়েক্সনার পরিবারের অর্থ-সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন। এফবিআই-এর নথিতে ওয়েক্সনারকে এপস্টাইনের ‘ষড়যন্ত্রকারী’ (কো-কনসপিরেটর) হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে তিনি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হননি এবং তাঁর আইনজীবীরা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম (Sultan Ahmed bin Sulayem) দুবাইয়ের বন্দর ও লজিস্টিকস সাম্রাজ্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রধান নির্বাহী। প্রকাশিত ই-মেইল থেকে জানা গেছে, এপস্টাইনের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এমনকি ২০০৮ সালে এপস্টাইনের দোষ স্বীকারের পরও তাঁদের মধ্যে ই-মেইল বিনিময় হয়েছে, যার মধ্যে ব্যক্তিগত ও অশ্লীল কথোপকথনও ছিল এই খবর প্রকাশ পাওয়ার পরই ব্রিটেন ও কানাডার দুটি বড় বিনিয়োগ সংস্থা ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে নতুন বিনিয়োগ স্থগিত করে দিয়েছে। ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট বলেছে, এই তথ্যে তারা ‘মর্মাহত’ এবং কোম্পানির ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত বিনিয়োগ বন্ধ রাখবে।
বাকি চারজনের মধ্যে নিকোলা ক্যাপুটো (Nicola Caputa), সালভাতোরে নুয়ারা (Salvatore Nuara), জুরাব মিকেলাদজে (Zurab Mikeladze) ও লিওনিক লিওনভ (Leonic Leonov)–এই নামগুলো সাধারণের কাছে প্রায় অজানা। ক্যাপুটো হয়তো ইতালির একজন সাবেক সাংসদ হতে পারেন, তবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বাকি তিনজন কে এবং কীভাবে এপস্টাইনের নথিতে এলেন, তা নিয়েই রহস্যের শেষ নেই। খান্নার দাবি, আরও অনেক নাম আছে যা এখনও গোপন রাখা হয়েছে ।
এপস্টাইনের দ্বীপ কোথায়?
এপস্টাইনের মালিকানায় দুটি দ্বীপ ছিল: লিটল সেন্ট জেমস আইল্যান্ড ও গ্রেট সেন্ট জেমস আইল্যান্ড।
দুটি দ্বীপই যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে সেন্ট থমাসের প্রায় দুই মাইল দূরে অবস্থিত। অনেক অভিযোগকারী বলেছেন, তাদের নির্যাতন লিটল সেন্ট জেমসে ঘটেছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটি দ্বীপের অভ্যন্তরের কিছু ছবি প্রকাশ করে।
২০২৩ সালে বিলিয়নিয়ার সম্পদ ব্যবস্থাপক স্টিফেন ডেকফ দ্বীপ দুটি ৬০ মিলিয়ন ডলারে কিনে নেন। ২০২৬ সাল পর্যন্ত সেখানে বড় কোনো নির্মাণকাজের খবর পাওয়া যায়নি।
তথ্যপ্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক
বিচার বিভাগের দাবি, তারা আইন অনুযায়ী সব নথি প্রকাশ করেছে। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল বন্ডির এই দাবি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ৪-এর এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফেডারেল তদন্তকারীরা এপস্টাইনের সম্পত্তি থেকে ২০ থেকে ৫০ টেরাবাইট তথ্য জব্দ করেছিলেন, যা প্রায় এক লাখ ফাইলিং ক্যাবিনেটের কাগজের সমান। কিন্তু সর্বশেষ প্রকাশিত ৩৫ লাখ পাতার নথি মোটে ৩০০ গিগাবাইটের মতো। হিসেব কষলে দেখা যাচ্ছে, এটি মোট তথ্যের মাত্র ২ শতাংশ হতে পারে। এক তদন্তকারীর ই-মেইলে পাওয়া উদ্ধৃতি বলছে, “ধরুন, এক লাখ ফাইলিং ক্যাবিনেটের কাগজ একসঙ্গে উলট-পালট করে দেওয়া হয়েছে। যে নথিগুলো স্ট্যাপল দিয়ে আটকানো ছিল, সেগুলো আলাদা হয়ে গেছে। আর যেসব নথি ১০০ পৃষ্ঠার বেশি, সেগুলো খোলাই যাচ্ছে না”।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট নেতা জেমি রাসকিন বন্ডিকে জেরা করে বলেছেন, তথ্য প্রকাশে দেরি করে এবং অপ্রয়োজনীয় অংশ কালো করে রেখে প্রশাসন ‘এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ লঙ্ঘন করছে। তিনি আরও জানান, অপ্রকাশিত ডেটাবেসে ‘ট্রাম্প’ শব্দটি খোঁজ করলে ১০ লাখের বেশি ফলাফল আসে, যা থেকে বোঝা যায় আরও অনেক কিছু এখনও আড়ালে রয়েছে।
এপস্টাইনের কুখ্যাত লিটল সেন্ট জেমস আইল্যান্ড ২০২৩ সালে ৬০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়ে গেলেও, জোরো র্যাঞ্চ বিক্রি হয়েছে ২০২৩ সালে টেক্সাসের ব্যবসায়ী ডন হাফিনেসের পরিবারের কাছে। হাফিনেস জানিয়েছেন, এই সম্পত্তির নাম বদলে ‘সান রাফায়েল র্যাঞ্চ’ রাখা হয়েছে এবং সেখানে একটি খ্রিস্টীয় ধ্যানস্থল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তদন্তে প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি ।
এপস্টাইন ফাইলস নিয়ে এই ধামাকা প্রতিবেদন এবং তার চারপাশের জটিলতা, আড়াল ও উন্মোচনের খেলা চলছেই। যত তথ্য বের হচ্ছে, ততই নতুন নতুন প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। কবে নাগাদ এই ধোঁয়াশা কাটবে, সেটাই এখন দেখার।
নতুন মোড় নিউ মেক্সিকোর জোরো র্যাঞ্চে
এপস্টাইনের ক্যারিবীয় দ্বীপের পাশাপাশি এখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে নিউ মেক্সিকোয় তাঁর জোরো র্যাঞ্চ। সেখানকার অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা গত ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সর্বসম্মতিক্রমে একটি দ্বিদলীয় ‘ট্রুথ কমিশন’ গঠন করেছেন, যা এই খামারে ঘটে যাওয়া যৌন নিপীড়ন ও মানব পাচারের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে।
সান্তা ফে থেকে প্রায় ৩৫ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত এই বিশাল খামারটি ১৯৯৩ সালে এপস্টাইন কিনেছিলেন। আইনপ্রণেতাদের ভাষ্য, এত বছর ধরে গুঞ্জন শোনা গেলেও ফেডারেল তদন্তে এই খামার প্রায় উপেক্ষিত ছিল। কমিশনের চেয়ারপারসন অ্যান্ড্রিয়া রোমেরো বলেছেন, “আমরা বছর বছর ধরে গুজব ও অভিযোগ শুনে এসেছি, কিন্তু দুঃখজনকভাবে ফেডারেল তদন্ত কখনো আনুষ্ঠানিক রেকর্ড তৈরি করতে পারেনি। এই ট্রুথ কমিশন অবশেষে সেই ফাঁকগুলো পূরণ করবে।”
কমিশনের হাতে সমন জারির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৫ লাখ ডলারের বেশি বাজেট। চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যে প্রাথমিক এবং ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে তাদের। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস সদস্য মেলানি স্ট্যান্সবারি জানিয়েছেন, অপ্রকাশিত নথিতে নিউ মেক্সিকোর কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সাল থেকে এই খামারে নারী ও পুরুষদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নাম প্রকাশ করাকে অনুচিত বলেই মনে করছেন তিনি।
কেন এত গুরুত্ব
এপস্টাইন ফাইলস শুধু একটি অপরাধ তদন্তের নথি নয়। এটি কয়েক দশকজুড়ে গড়ে ওঠা প্রভাব, ক্ষমতা ও দায়মুক্তির জটিল চিত্র তুলে ধরে। বিবিসি জানিয়েছে, এই নথিগুলো আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। রয়টার্স বলছে, তথ্য প্রকাশের প্রতিটি ধাপ নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে, আর সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও পুরোপুরি পাওয়া যায়নি।