দেশের চা শিল্পে আবারও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির আভাস মিলেছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালের চা উৎপাদন মৌসুমে আগের বছরের তুলনায় দেশে ১৮ লাখ ৭০ হাজার কেজি বেশি চা উৎপাদিত হয়েছে। যদিও নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি, তবুও উৎপাদন বৃদ্ধিকে চা শিল্পের জন্য আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকাশিত মাসিক পরিসংখ্যান বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
চা বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে দেশের মোট চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ কোটি ৩০ লাখ কেজি। কিন্তু বছর শেষে মোট উৎপাদন দাঁড়ায় ৯ কোটি ৪৯ লাখ ১২ হাজার কেজি। অন্যদিকে ২০২৪ সালে দেশে চা উৎপাদন হয়েছিল ৯ কোটি ৩০ লাখ ৪২ হাজার কেজি। সেই হিসাবে সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও পুর্ববর্তী বছরের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে ১৮ লাখ ৭০ হাজার কেজি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আবহাওয়ার বৈচিত্র্য এবং উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি সত্ত্বেও উৎপাদন বৃদ্ধির এই ধারা দেশের চা শিল্পের স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত বহন করে।
চা শিল্পের ১৭০ বছরের ইতিহাসে রেকর্ডের বছর ২০২৩ সাল। চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১৭০ বছরের চা শিল্পের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড গড়ে ২০২৩ সাল। ওই বছর চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ কোটি ২০ লাখ কেজি। বছর শেষে উৎপাদন দাঁড়ায় ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার কেজিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৯ লাখ ১৮ হাজার কেজি বেশি। এর মাধ্যমে দেশের চা শিল্পে নতুন মাইলফলক স্থাপিত হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, নতুন ক্লোন জাতের চা গাছ, সমপ্রসারিত চা আবাদ এবং ক্ষুদ্র চা চাষিদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ফলে সামপ্রতিক বছরগুলোতে উৎপাদনে ধারাবাহিক উন্নতি দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে মোট ১৭১টি চা বাগান রয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার জেলায় সর্বাধিক ৯০টি চা বাগান অবস্থিত। এছাড়া হবিগঞ্জে ২৫টি, চট্টগ্রামে ২২টি, সিলেটে ১৯টি, পঞ্চগড়ে ১০টি, রাঙামাটিতে ২টি এবং ঠাকুরগাঁও জেলায় ১টি চা বাগান রয়েছে।
দেশজুড়ে নার্সারিসহ মোট চা চাষাধীন জমির পরিমাণ বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৪১ একর, যা দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে চা শিল্পের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরে।
চা শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ হলেও উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা শিল্পটির সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে ক্ষুদ্র চা চাষের সমপ্রসারণ দেশের মোট উৎপাদনে নতুন গতি যোগ করেছে।
তাদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, শ্রমিক কল্যাণ এবং বাজার সমপ্রসারণ নিশ্চিত করা গেলে আগামী বছরগুলোতে আবারও উৎপাদনের নতুন রেকর্ড গড়া সম্ভব।