সাতক্ষীরায় জুনিয়র বৃত্তিতে ৫৩৮ শিক্ষার্থীর সাফল্য

এফএনএস (এস.এম. শহিদুল ইসলাম; সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
সাতক্ষীরায় জুনিয়র বৃত্তিতে ৫৩৮ শিক্ষার্থীর সাফল্য

সাতক্ষীরা জেলার শিক্ষাঙ্গনে বুধবার ছিল এক আনন্দের দিন। এদিন জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর দেখা গেছে, মেধার লড়াইয়ে এ জেলার শিক্ষার্থীরা এক অনন্য উচ্চতা স্পর্শ করেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রকাশিত এই ফলাফলে দেখা যায়, সাতক্ষীরা জেলা থেকে মোট ৫৭৮ জন শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় নিজেদের নাম খোদাই করতে সক্ষম হয়েছে। যার মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ১৬৩ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ৪১৫ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন কর্তৃক প্রকাশিত এই ফলাফলের গভীর বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলার প্রতিটি উপজেলা থেকেই শিক্ষার্থীরা সমানে সমান লড়াই করেছে। সাফল্যের এই মিছিলে বরাবরের মতোই আধিপত্য বজায় রেখেছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা। এখানে ট্যালেন্টপুলে ৫৩ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ১১৩ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ১৬৬ জন বৃত্তি পেয়েছে, যা জেলার মোট বৃত্তির বড় একটি অংশ। সাতক্ষীরার উপকূলীয় ও সীমান্তঘেঁষা উপজেলাগুলোও পিছিয়ে নেই। কালিগঞ্জ উপজেলা থেকে মেধার স্বাক্ষর রেখেছে ৮৮ জন শিক্ষার্থী (২৮ জন ট্যালেন্টপুল, ৬০ জন সাধারণ গ্রেড)। সমান তালে এগিয়েছে শ্যামনগর ও কলারোয়া। এই দুই উপজেলার প্রতিটি থেকেই ৮৪ জন করে শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে, যেখানে ট্যালেন্টপুলে ২৭ জন করে শিক্ষার্থী স্থান পেয়েছে। আশাশুনি উপজেলার চিত্রটিও বেশ আশাব্যঞ্জক; এখান থেকে মোট ৮৩ জন শিক্ষার্থী সাফল্যের তালিকায় নাম লিখিয়েছে (২৬ জন ট্যালেন্টপুল, ৫৭ জন সাধারণ গ্রেড)। জেলায় মেধার এই বিকেন্দ্রীকরণ আরও স্পষ্ট হয় যখন দেখা যায় তালা উপজেলা থেকে ৬৪ জন (২০ জন ট্যালেন্টপুল, ৪৪ জন সাধারণ গ্রেড) এবং তুলনামূলক ছোট উপজেলা দেবহাটা থেকে ৩৯ জন (১২ জন ট্যালেন্টপুল, ২৭ জন সাধারণ গ্রেড) শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। ”সাতক্ষীরার এই সামগ্রিক সাফল্য প্রমাণ করে যে, যথাযথ সুযোগ ও পরিবেশ পেলে প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে পারে।” সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীর বলেন, সাতক্ষীরা জেলার এই গৌরবোজ্জ্বল ফলাফল জেলার সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনেরই একটি প্রতিফলন। এই ৫৩৮ জন শিক্ষার্থীর মুখে যে হাসি ফুটেছে, তা আগামী দিনের সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা গড়ার প্রেরণা হয়ে থাকবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে