কড়াইল বস্তি থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু ১০ মার্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ৩ মার্চ, ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম | প্রকাশ: ৩ মার্চ, ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম
কড়াইল বস্তি থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু ১০ মার্চ

নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে বগুড়া সফর স্থগিত করে আগামী সোমবার ১০ মার্চ সকালে রাজধানীর কড়াইল বস্তি থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার ৩ মার্চ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ বি এম জাহিদ হোসেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রথমে বগুড়ায় এই কর্মসূচির উদ্বোধনের পরিকল্পনা ছিল। তবে বগুড়া সদর আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আচরণবিধির কারণে সেখানে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নির্বাচন বিধি মেনেই রাজধানীর ১৭ আসনের কড়াইল বস্তি থেকে কর্মসূচির শুভ সূচনা করা হবে।

বগুড়া ৬ সদর আসনে আগামী ৯ এপ্রিল উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান বগুড়া ৬ এবং ঢাকা ১৭ আসন থেকে নির্বাচিত হন। বিধি অনুযায়ী শপথের আগে তিনি বগুড়া ৬ আসন ছেড়ে দেন। ফলে সেখানে উপনির্বাচনের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন। জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ১০ মার্চের বগুড়া কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে এবং পরে নতুন তারিখ জানানো হবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, একই দিনে দেশের আরও ১৪টি স্থানে দলীয় নেতা ও মন্ত্রীদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা অঞ্চলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। নেতাদের সরাসরি তদারকিতে উপযুক্ত পরিবারগুলোর মধ্যে কার্ড দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনী অঙ্গীকার অগ্রাধিকার প্রকল্প ফ্যামিলি কার্ডের বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। গত ২৩ তারিখ থেকে তথ্য সংগ্রহ ও উপাত্ত সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে, তবে ১০ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিক বিতরণ শুরু হবে।

পাইলট প্রকল্পের আওতায় কড়াইল, সাততলা, ভাসানটেক ও ওলিটেক বস্তি মিলিয়ে প্রায় ৪৪ হাজার পরিবার চিহ্নিত হয়েছে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ১৫ হাজারের বেশি, খুলনার খালিশপুরে ৭ হাজারের বেশি পরিবার রয়েছে। চরফ্যাশনে সাড়ে সাতশ এবং লামায় সাড়ে পাঁচশ পরিবার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এলাকাভেদে সংখ্যা ভিন্ন হওয়ায় নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ৮ মার্চ জানানো হবে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, কার্ডটি স্মার্ট কার্ডের আদলে তৈরি হবে। প্রতিটি পরিবারের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এতে সংরক্ষণ করা হবে এবং পরে মুদ্রণ করে বিতরণ করা হবে। বড় বস্তি এলাকা যুক্ত হওয়ায় প্রাথমিক পরিকল্পনার তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি কার্ডের প্রয়োজন হচ্ছে।

ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবার সরাসরি আর্থিক সুবিধা পাবে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারও কার্ড পাবে, তবে তারা কোনো আর্থিক সুবিধা পাবে না। তাদের কার্ডে কিউআর কোডের মাধ্যমে উল্লেখ থাকবে যে তারা রাষ্ট্রীয় তহবিলে অবদান রাখছেন। কর্মসূচিতে নারীর ক্ষমতায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবারভিত্তিক সহায়তার মাধ্যমে মা যেন সন্তানের শিক্ষা ও পুষ্টিতে বিনিয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কার্ডের সুবিধা কতদিন থাকবে জানতে চাইলে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার পর সরকার কাজ শুরু করেছে। সফটওয়্যার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হলে সুবিধাভোগীর তালিকাও হালনাগাদ করা যায়। লক্ষ্য ধীরে ধীরে মানুষের স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনা।

তিনি আরও জানান, পাইলট কার্যক্রম ১০ থেকে ১২টি স্থানে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরুর আগেই ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছিল।