রোহিঙ্গাদের পাশে জাপান, আইওএমকে ২৬ লাখ ডলার সহায়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ৩ মার্চ, ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম | প্রকাশ: ৩ মার্চ, ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
রোহিঙ্গাদের পাশে জাপান, আইওএমকে ২৬ লাখ ডলার সহায়তা

কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ২ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দিচ্ছে জাপান সরকার। এই অর্থ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএমের মাধ্যমে ব্যয় হবে।

মঙ্গলবার ৩ মার্চ বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং আইওএম বাংলাদেশের মিশন প্রধান জিউসেপ্পে লোপ্রেতে এ সংক্রান্ত চুক্তিতে সই করেন।

সহায়তার আওতায় প্রায় ৫ লাখ ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের সদস্যরা উপকৃত হবেন। আশ্রয়, অখাদ্য সামগ্রী, এলপিজি বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, সাইট ব্যবস্থাপনা ও সাইট উন্নয়নে এই অর্থ ব্যয় হবে। পাশাপাশি কক্সবাজারে বাস্তুচ্যুত ও দুর্যোগপ্রবণ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে। শরণার্থীদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি আশা প্রকাশ করে বলেন, “রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশে বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে সমর্থন দিতে জাপান দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইওএমের সঙ্গে আমাদের অব্যাহত অংশীদারত্ব এই দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, স্থিতিস্থাপকতা জোরদার এবং মানবিক মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবে।”

আইওএমের মিশন প্রধান জিউসেপ্পে লোপ্রেতে বলেন, “২০২৬ সালে কক্সবাজারে মানবিক কার্যক্রমে সহায়তা করা ক্রমেই জরুরি হয়ে উঠছে। শরণার্থীদের চাহিদা বাড়ছে, অথচ দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এখনো আসেনি।” তিনি আরও বলেন, “জাপান সরকারের উদার সহায়তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। এই অনুদান আশ্রয় ও স্বাস্থ্যসেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ জীবনরক্ষাকারী সহায়তা জোরদার করবে এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগ ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বাড়াবে।”

২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে জাপান বাংলাদেশে মানবিক সহায়তার ধারাবাহিক অংশীদার। আইওএমসহ বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে দেশটি।