পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি বলেছেন, ১৭ বছর এ দেশে নির্বাচিত সরকার ছিল না। এই ১৭ বছরের জঞ্জাল আমাদেরকে পরিস্কার করতে হবে। ১৭ বছরের আবর্জনা বর্জ্য আমাদেরকে পরিস্কার করতে হবে। যেহেতু আমরা নির্বাচিত সরকার, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সকল কাজ সকল ডিপার্টমেন্টের সহিত সমন্বয় করবোই। যারা দখল করে আছেন, যাদের বিশেষ প্রয়োজন সহযোগীতা করার, সকলের আন্তরিকতা-সহযোগীতার মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমিক সরকার হিসেবে জনগণের স্বার্থে, জনগণের পাশে থেকে কাজ করা, সেই কাজগুলো আমরা হাতে নিয়েছি। এ কাজগুলো চালু রাখবো, তখন সেই সুবিধা জনগণের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দেবো। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে লক্ষ্ণীপুর সদর উপজেলার রহমতখালী খাল, ওয়াপদা খাল, জকসিন খাল ও মান্দারী খাল পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ্যানি চৌধুরী লক্ষ্ণীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহবায়ক। শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারুল উপজেলায় সাহাপাড়া খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। এরমাধ্যমে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। সারাদেশেই আমরা এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার জিবদ্দশায় এ কর্মসুচি হাতে নিয়েছিলেন এবং সে সময় খাল খননের সুবিধা পেয়েছি। ফলে উৎপাদন দ্বিগুন হয়েছে, মাছের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। সবকিছু মিলে আমরা এলাকাটাকে স্বনির্ভর হিসেবে গড়তে সক্ষম হয়েছি। এখনো সারা বাংলাদেশটাকে স্বনির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন এবং জিয়াউর রহমানের যে কর্মসূচি সে কর্মসুচী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব এগিয়ে নিয়ে যাবো।লক্ষ্ণীপুর সদর উপজেলার রহমতখালী, ওয়াপদা জকসিন ও মান্দারী খাল পরিদর্শন করেছি। খালে যে পরিমাণ ময়লা বর্জ্য পড়ে আছে বা দখল হয়ে আছে, এগুলো যদি আমরা কোনভাবেই সরিয়ে না নিই, তাহলে খাল খননের সুবিধা আমরা পাবো না। সেজন্য একদিকে খাল খনন অব্যাহত থাকবে, পাশাপাশি সবার সহযোগীতা প্রয়োজন। যারা অবৈধভাবে দখলদার এবং বিভিন্ন জায়গায় ময়রা আবর্জনা পেলেন, তারা আরও সতর্ক এবং সজাগ হতে হবে। সবার আন্তরিকতা এবং সহযোগীতার মাধ্যমে আমরা যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, এটি সফল হবে বলে আমরা মনে করছি। তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উন্নয়ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন দপ্তরে উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। খাল পুনঃখনন কার্যক্রম সফল করতে স্থানীয় সচেতন মহলসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এ সময় তিনি খালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং খালের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলে খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা, জলাবদ্ধতা নিরসন ও খাল পুনঃখননের বিষয়ে মতামত নেন। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খালের উন্নয়ন ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। এদিকে তিনি ওয়াপদা খালের ভাঙন কবলিত এলাকাও পরিদর্শন করেন। সরেজমিনে ভাঙনের পরিস্থিতি দেখে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ জামান খান, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, চন্দ্রগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি এম বেলাল হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মহসিন কবির স্বপন ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম প্রমুখ।