গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খান পুনরায় দলে ফিরতে চাইলে তাকে স্বাগত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, রাশেদের বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে গণঅধিকার পরিষদের বড় ভূমিকা রয়েছে।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নুরুল হক নুর বলেন, “রাশেদ খান যদি গণঅধিকার পরিষদে আসতে চায়, আমরা তাকে ওয়েলকাম করব।” তিনি যোগ করেন, “একজন মানুষকে তৈরি করতে সংগঠনের অনেক ত্যাগ লাগে। রাশেদ আজ যে জায়গায় এসেছে, তার পেছনে আমাদের নেতাকর্মীদের অনেক অবদান রয়েছে।”
নুর আরও বলেন, গণঅধিকার পরিষদের কঠিন সময়ের সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়েই অনেক নেতার রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, “আজকে সে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত, মিডিয়ায় পরিচিত। কিন্তু এই পরিচিতির পেছনে সংগঠনের অবদান রয়েছে।”
রাশেদ খানের বিএনপিতে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর জানান, গত নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন, যা দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই করা হয়েছিল। “জোটের সমীকরণ বিবেচনায় তাকে ওই প্রতীকে নির্বাচন করতে দেওয়া হয়েছিল,” বলেন তিনি। এ কারণে দলীয় নিয়ম অনুযায়ী তাকে বিএনপির সদস্যপদ নিতে হয়েছিল বলেও জানান নুর।
এদিকে সোমবার (১৬ মার্চ) পটুয়াখালীর শিশুপার্কে জেলা গণঅধিকার পরিষদের ইফতার ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে নুরুল হক নুর দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, “সরকারি দল, বিরোধী দল, বলা চলে আমরা এক পক্ষের লোক। গত ১৬ বছর আমরা একসঙ্গে আন্দোলন করেছি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য।”
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় অনেক নেতা-কর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। “আমি এমপি ও মন্ত্রী হয়েছি, কিন্তু ৫ আগস্টের আগে নিজের জেলায় আসার মতো নিরাপদ ছিলাম না,” বলেন তিনি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে নুর বলেন, “তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের বাইরে ছিলেন। তিনি আপস করেননি বলেই দেশে ফিরতে পারেননি। তার মা খালেদা জিয়াও আপস না করে কারাবরণ করেছেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশেদ খানকে ঘিরে নুরের এই মন্তব্য ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা দিতে পারে। বিশেষ করে বিরোধী রাজনীতির ভেতরে সম্পর্কের নতুন ইঙ্গিত হিসেবেও বিষয়টি দেখা হচ্ছে।