চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে গাছপালা, ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে ও গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বুধবার(২৫ মার্চ-২০২৬)রাত ৭টার পর কালবৈশাখী ঝড়ে এ ঘটনা ঘটে। আধাঘন্টা বয়ে যায় কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডব। সরেজমিনে ও বিভিন্ন এলাকার খবরে এ উপজেলার সকল এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।ঝড়ের স্থায়িত্ব কম হলেও কোথাও কোথাও বাতাসের বেগে ঘরবাড়ি ও গাছ-গাছালির ক্ষতির পাশাপাশি উড়ে গেছে বিভিন্ন স্থাপনা।ঝোড়ো বাতাসে আম, লিচু, ভুট্টা, ধান, পাটসহ উঠতি ফসলের ক্ষতি হয়েছে।ঝড়ের কারণে সড়কের ওপর গাছ উপড়ে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ সড়কগুলোতে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। মতলব উত্তরে কালবৈশাখীর তাণ্ডব মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে নির্মিত প্যান্ডেল কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে সম্পূর্ণ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। হঠাৎ ঝড়ের আঘাতে মুহূর্তেই সবকিছু ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে, নষ্ট হয়ে যায় সাজসজ্জা ও প্রস্তুতি। এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝেও স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করেছেন প্রশাসন। কালবৈশাখীর আঘাতে বড় বড় গাছ ভেঙে বিদ্যুতের খুঁটির ওপর পড়ে তার ছিঁড়ে যায়, ফলে পুরো গ্রাম বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পক্ষে বিদ্যুতের খুঁটির ওপর পড়ে গাছ সড়িয়ে ছিঁড়ে যাওয়া তার জোড়া দিয়ে সহসা বিদ্যুৎ লাইন সচল করা সম্ভব না বলে সচেতন মহল মনে করছেন। তার জন্য এলাকা ভিত্তিক সকল মানুষের সহযোগিতা করতে হবে।পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মতলব উত্তর জোনাল অফিসের ডিজিএম এমডি ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে খুঁটি ও বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট টিম কাজ করছে।গ্রাহকদের সহযোগিতার জন্য অনুরোধ জানান। কলাকান্দা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউপি বিএনপির সাবেক সভাপতি মোসলেম উদ্দিন মোল্লা বলেন, রাতে কালবৈশাখী ঝড় থেমে যাওয়ার পর বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেছি। গাছপালা, বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। উপজেলা কৃষি অফিসার ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, ঝড়ে গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বোরো ধানের ক্ষতি হবে না। বিভিন্ন ধরনের সবজির কিছুটা ক্ষতি হলেও ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে । গাছপালা ও ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। সড়ক থেকে দ্রুত গাছ অপসারণ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছি ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সড়ক ও বিদ্যুৎ লাইনে ওপরে পড়ে থাকা গাছ সরানোর জন্য সকলকে আহবান জানাই।