২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের মহিনন্দ ইউনিয়নের শোলমারা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে স্বাধীনতাযুদ্ধে বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে কিশোরগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক, সমাজ কর্মী, লেখক ও গবেষক মো.আমিনুল হক সাদী। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের মহিনন্দ শোলমারা স্মৃতি স্তম্ভে তাঁর প্রতিষ্ঠিত যুব সংগঠন যুব উন্নয়ন পরিষদ,মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদ ও পাঠাগারের দায়িত্বশীল এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে ফুলেল শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এছাড়াও গোয়ালাপাড়াস্থ মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদ ও পাঠাগারে এবং যুব উন্নয়ন পরিষদের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোচনাসভার আয়োজন করেন।
যুব উন্নয়ন পরিষদ, মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদ ও পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল হক সাদী জানান, প্রতিবারের ন্যায় এবারে যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ পালন করেছি। দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনাসভাসহ পাঠাগারে বই পড়া ও পাঠ প্রতিযোগিতার কর্মসুচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। এসব কর্মসুচীতে উপস্থিত ছিলেন মহিনন্দ ইউনিয়ন বিএনপির ৩ নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বাবুল, বিএনপি নেতা শাহ আলম, মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ হোসাইনস,যুব উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, সহ সাধারণ সম্পাদক শিল্পী নিরব রিপনসহ সদস্যগণ ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
যুব উন্নয়ন পরিষদ, মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদ ও পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল হক সাদী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০০৬ সাল থেকে মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদ ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস পালন করে আসছে। শোলমারার আজকের এই স্তৃতিস্তম্ভটি সেসময়ে ছিলো না। এ বিষয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় আমি লেখালেখি করলে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সোলতান আহমেদের দৃষ্টিগোচর হলে জেলা পরিষদের মাধ্যমে একটি স্তৃতি স্তম্ভ তৎকালীন জেলা পরিষদের সচিব শাহনেওয়াজ খানমের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নৃশংস গণহত্যার সাক্ষী শোলমারা ব্রীজ সংলগ্ন বধ্যভূমি স্তৃতিস্তম্ভটি আধুনিকায়ন করা হয়। আমার প্রতিষ্ঠিত মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদের মনোগ্রাম হিসেবে এই স্তৃতিস্তম্ভটি ঐতিহ্যের স্মারক হিসেব ব্যবহার করে আসছি। ২০১০ সালে যুব উন্নয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিয়মিতভাবেই ফুলেল শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে আসছি। প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও আমাদের এই শ্রদ্ধা নিবেদন। তিনি আরও বলেন, আমার প্রতিষ্ঠিত মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগারে মহিনন্দ কর্নার,যুব কর্নার,মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই কর্নার,কিশোরগঞ্জ কর্নারসহ প্রায় ৫ হাজার বইয়ের একটি সংগ্রহশালা ও প্রাচীন ইতিহাস ঐতিহ্যর আর্কাইভ গড়ে তুলেছি। যুব কার্যক্রমে অনন্য অবদান রাখায় জেলায় আমার প্রতিষ্ঠিত যুব উন্নয়ন পরিষদ সংগঠনটি শ্রেষ্ঠ সংগঠন হিসেবে একাধিকবার সম্মাননা ও সনদ পেয়েছে। পাঠাগারটিও জেলায় বেসরকারি গণগ্রন্থাগার হিসেবে শ্রেষ্ঠ সম্মাননা ও সনদ পেয়েছে। এতে সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন এই যুব সংগঠক।