মুন্ডুমালা শাহিন ফিলিং স্টেশনে বাইক চালকদের ওপর হামলা

মো: ইমরান হোসাইন; তানোর, রাজশাহী
| আপডেট: ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম | প্রকাশ: ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
মুন্ডুমালা শাহিন ফিলিং স্টেশনে বাইক চালকদের ওপর হামলা
রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর সদরে অবস্থিত শাহিন ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল নিতে আসা বহিরাগত মোটরসাইকেল চালকদের বেধড়ক পিটিয়েছেন স্থানীয়রা। বুধবার ৮ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে এঘটনা ঘটে। পরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালকদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু পুলিশ আর পাম্প কর্তৃপক্ষ ও ট্যাগ অফিসারের একান্ত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরআগে তেল বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। এক ফেসবুক ভিঢিওতে দেখা যায়, বুধবার সকাল ১১টার দিকে জেলা যুবলীগ নেতা মুন্ডুমালা বাজারের বাসিন্দা আবু রায়হান তপন, বাস মাস্টার হবিবুর, ফয়সালসহ তাদের নেতৃত্বে তানোর সদরের বাইক চালকদের বেধড়ক পেটানো। ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে আরো দেখা যায়- মুন্ডুমালার বাসিন্দা যুবলীগ তপন বলছে ধর মার, তাদেরকে কোন তেল দেয়া হবে না। তারা তানোর থেকে কেন তেল নিতে আসবে, তাদের লাঠি পেটা করে তাড়িয়ে দাও। ঘন্টাব্যাপি চলে মারপিট। এতে বেশকিছু বাইক চালক আহত হয়। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। পাম্পে ছিলেন প্রোপাইটার সাবেক চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক তিনি জানান, এটা বৈশ্বিক সমস্যা। এখানে ধৈর্য্য ধরে তেল নিতে হবে। সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে রাস্তার উপরে হট্টগোল শুরু হয়। পরে সবার প্রচেষ্টা পরিবেশ স্বাভাবিক হয় এবং তেল বিতরণ শুরু করা হয়। ট্যাগ অফিসার কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, ফিলিং স্টেশনের ভিতরে হট্টগোল হয়নি। সুষ্ঠুভাবে তেল বিতরণ করা হচ্ছে। প্রথমে ৫০০ টাকা করে তেল দেয়া হচ্ছিল। পরে কমিয়ে ৩০০ টাকার করে বাইকপ্রতি তেল দেয়া হয়। কারণ তখনও লম্বা লাইন। মঙ্গলবার চৌবাড়িয়া ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনে তেল বিতরণের সময় দফায় দফায় মারপিট হয়। বন্ধ হয়ে যায় মুল রাস্তা। প্রচুর যানজট সৃষ্টি হয়। বাকি চালকরা বন্ধ করে দেয় রাস্তা। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খান সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করে তেল দেয়া শুরু করেন তিনি। জনসাধারণের ভাষ্য, শুধু তানোর নয় দেশের যে ফিলিং স্টেশনে তেল দেয়া হচ্ছে সেখানেই মোটরসাইকেলের দীর্ঘলাইন। আবার অনেকে ৫০০ টাকার তেল নিতে এসে ২০০ টাকার তেল নেয়ার পরে ট্যাংকি দিয়ে তেল পড়ে যাচ্ছে। প্রয়োজন না থাকার পরেও তেল নিচ্ছে বাইক চালকরা। তেল দেয়ার ২৪ ঘন্টা আগ থেকে লাইন শুরু হচ্ছে। কয়েক কিলোমিটার লম্বা লাইনের কারণে রাস্তায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সরকার বলছে তেলের কোন ঘাটতি নেই। আতঙ্কিত হয়ে বাইক চালকরা প্রয়োজন না থাকলেও তেল নিচ্ছে। আবার অনেক বাইক চালক তেল নিয়ে বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। ই/তা
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে