দৌলতপুরে

কোরআন অবমাননা করায় হামলা, গণপিটুনিতে কথিতপীরের মৃত্যু

এফএনএস (মোঃ সাইফুল ইসলাম শাহিন; দৌলতপুর, কুষ্টিয়া) : | প্রকাশ: ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
কোরআন অবমাননা করায় হামলা, গণপিটুনিতে কথিতপীরের মৃত্যু

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পবিত্র কুরআন শরিফ নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে শামীম (৫২) নামে এক ব্যক্তি বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় অবস্থিত তার নিজস্ব দরবার শরিফে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় শামীমের আরও দুই অনুসারী গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত শামীম ফিলিপনগর এলাকার সামসুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি নিজেকে ‘কালান্দার বাবা জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরী’র অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিতেন। সম্প্রতি শামীম তার দরবারে অনুসারীদের উদ্দেশ্যে পবিত্র কুরআন শরিফ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, “কুরআন যিনি লিখেছেন তিনিও মূর্খ এবং যারা এটি পড়েন তারাও মূর্খ।” এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বেলা একটার দিকে শত শত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ফিলিপনগরে অবস্থিত শামীমের দরবার শরিফ ঘেরাও করেন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা দরবারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও একাধিক কক্ষে অগ্নিসংযোগ করেন। এ সময় দরবারের ভেতরে থাকা শামীম ও তার দুই অনুসারী এলোপাথাড়ি পিটুনির শিকার হন। বিকাল তিনটার দিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গুরুতর আহত অবস্থায় শামীমসহ তিনজনকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।  চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা তিনটা ২০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়। আহত বাকি দুজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫-৬ বছর ধরে শামীম ইসলামের নাম ব্যবহার করে নানা ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। এর আগেও গান-বাজনা করে লাশ দাফন করাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি জনসমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান জানান, শামীম বেশ কয়েক বছর ধরে ওই দরবার পরিচালনা করে আসছিলেন। বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ দরবার শরিফ এলাকা ঘিরে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দৌলতপুর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যেন নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোববার সকালে পাঠানোর প্রক্রিয়া শনিবার রাতে সম্পন্ন করা হয় দৌলতপুর থানায়।  এবং এ ঘটনায় বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ দিকে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান,ডিডিএলজি মাহাবুবুল আলম, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাঅনিন্দগুহ,উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি প্রদীপ কুমার দাস শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে