বরিশাল নগরীর একটি ফ্লাটে বসে জুয়া খেলার সময় স্থানীয় সাংবাদিকদের তোপের মুখে পরে দৌঁড়ে পালিয়েছেন ওসি এমএ আবুল খায়ের ও প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ইন্সপেক্টর হেলাল। পুরো ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরার ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওসি এমএ আবুল খায়ের বর্তমানে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দ্বায়িত্ব পালন করছেন। এরআগে পটুয়াখালীর মহিপুর থানার ওসি থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে এমএ আবুল খায়ের তার শ্বশুরের নামে কোটি টাকার সম্পত্তি গড়েছেন। শুধু অবৈধ সম্পদ উপার্জনই নয়, তার বিরুদ্ধে রয়েছে ঘুষ, দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করাসহ নানা অভিযোগ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে নগরীর একটি ফ্লাটে জুয়া খেলা চলছে এমন সংবাদ পেয়ে সেখানে ছুটে যান সাংবাদিকরা। সেখানে গিয়ে দেখেন একটি লম্বা টেবিল। টেবিল ঘেঁষে চারদিকে চেয়ার সাজানো। চেয়ারে পাঁচ থেকে ছয়জন বসে আছেন। একপাশে ওসি এমএ আবুল খায়েরও বসে রয়েছেন। প্রত্যেকের সামনে টেবিলে মানিব্যাগ ও মোবাইল রাখা। প্রত্যেকের সামনে টেবিলের ওপরে তাস ও ৫০০-১০০০ টাকার নোট। চেয়ারে বসে টেবিল থেকে তাস নিচ্ছে। সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখেই কয়েকজন দৌঁড়ে পালিয়ে যান। তাদের মধ্যে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ইন্সপেক্টর হেলালও দৌঁড়ে পালিয়ে যান। এসময় আবুল খায়ের ক্যামেরা থেকে নিজেকে আড়াল করতে টাকা আর মোবাইল নিয়ে পাশের বাথরুমে ঢ়ুকে ভিতর থেকে দরজা আটকে দেন। এরপর সুযোগ বুঝে তড়িঘড়ি করে তিনি নেমে যান। পরে অন্য লোক দিয়ে সাংবাদিকদের ম্যানেজের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ইন্সপেক্টর হেলাল মোবাইল ফোনে বলেন, আমি ওই ফ্লাটে পাওনা টাকা আনতে গিয়েছিলাম, এমন সময় সাংবাদিকরা ঢ়ুকে ভিডিও করতে থাকে। তবে হেলাল নিজেকে পিরোজপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দাবি করলেও তিনি প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ইন্সপেক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।