দুই বছরের অধিক সময় ধরে রাস্তার কাজের বক্স কাটিং করে রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। পরবর্তী ধাপগুলো শুরু হয়নি এ দীর্ঘ সময়েও। ফলে রাস্তার ঘেঁষে প্রতিষ্ঠিত একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনের দেয়ালে ধরেছে ফাটল, যেকোন সময় বড় দুর্ঘটনার আশংকা করছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের কাজ হলেও এখনো পর্যন্ত বক্স কাটা ছাড়া কোন অগ্রগতি নেই কাজে। বিষয়টি নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের। তবে ইউএনও কাজ শুরু করার জন্য ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিলেও তাতে কোন ফল আসেনি।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের এমআরআইডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মোক্ষপুর ইউনিয়নের বগারবাজার রোড ভায়া সাপখালী বাজার রাস্তাটি এক কোটি ৫৫লাখ ৩৩ হাজার ৫০৮ টাকা ব্যয়ে কাজটি পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মুঞ্জু এন্টারপ্রাইজ। ২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর রাস্তার কাজটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সময়মতো কাজ শুরু হয়নি। বেশ কিছুদিন পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বক্স কাটলেও আর অগ্রসর হয়নি পরের ধাপ। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অদৃশ্য কারণে বক্স কাটা অবস্থাতেই এখনো পরে আছে রাস্তাটি। ৮ মাসেরও অধিক সময় ধরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কোন পদক্ষেপ নেই উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের। উপ সহকারী প্রকৌশলী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দায়সারা নোটিশ প্রদান করেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজ শুরুর জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিলেও কোন ফল হয়নি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পরেছেন কয়েকটি এলাকার জনসাধারণ ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শতশত শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি দীর্ঘদিন যাবত রাস্তাটি বক্স কেটে ফেলে রাখায় রাস্তার পাশে অবস্থিত সাপখালী নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালেয়র পিছনের দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেয়াল ধসে পড়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাপখালী নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালেয়র নবম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিদ হাসান ও হাজেরা আক্তার বলেন, এ রাস্তা দিয়ে আমরা প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করি। তবে কয়েক বছর ধরে রাস্তাটি এ ভাবে গর্ত করে ফেলে রাখায় চলাচলের ভীষণ অসুবিধা হচ্ছে। গতবর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ে আসতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়েছে, সামনে আবারও বর্ষাকাল আসছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ তোতা মিয়া বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে রাস্তাটি গর্ত করে ফেলে রেখেছে ঠিকাদার। ফলে কয়েক গ্রামের মানুষ আজ অনেকটা ঘরবন্দী হয়ে পড়েছে। বিপদে-আপদে রাস্তা দিয়ে রোগী নিয়ে হাসপাতালেও যাওয়া সম্ভব হয় না। রাস্তাটি যেন দ্রুত কাজ শেষ করার ব্যবস্থা করে দেন তার জন্য তিনি সরকারের কাছে দাবী জানান। অটো গাড়ি চালক পারভেজ বলেন, কি বলবো ভাই এ রাস্তাটা দেখার কেউ নাই। রাস্তাটি গর্ত করে ফেলে রেখেছে ঠিকাদার অথচ কথা বলার কেউ নেই। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার এ রাস্তা মনে হয় দেখা শোনা করে না। তা না হলে রাস্তাটি দুই বছর ধরে এ ভাবে গর্ত করে ফেলে রাখতো না। আমরা কার কাছে এর সমাধান চাইবো? সাপখালী নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ মোহাম্মদ আশরাফুল কবির শিপন বলেন, বিদ্যালয় ঘেঁষা রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে গর্ত করে ফেলে রাখার কারণে বিদ্যালয়ের একটি দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কাজের কোনো অগ্রগতি না পেয়ে ইউএনও স্যারকে বিষয়টি জানিয়েছি। স্যার দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।
সাপখালী নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ হযরত আলী বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তিনি আমাদের রাস্তাটি করে দিচ্ছে না ফলে বিদ্যালয়ের দেয়ালের মাঝে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মুঞ্জু এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী মোঃ মুঞ্জুরুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, গত দুই বছর যাবত মেসার্স মুঞ্জু এন্টারপ্রাইজকে বারবার নোটিশ প্রদান করলেও কাজের কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। ঠিকাদার এ কাজটি বিক্রি করে দিয়েছেন অন্য ঠিকাদারের কাছে। আপনি চাইলে নতুন ঠিকাদারের সাথে কথা বলতে পারেন। কাজটি ময়মনসিংহ অফিসের টেন্ডার হওয়ার কারণে মেইন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মুঞ্জু এন্টারপ্রাইজের কোনো মোবাইল নাম্বার আমার কাছে নেই। উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ যুবায়েত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন রাস্তার কাজ বন্ধ ছিল, পরবর্তীতে মিটিংয়ে বন্ধ হওয়া কাজগুলো দ্রুত শেষ করার জন্য বলা হয়। কাজটা শুরুও করেছিল, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কারো সাথে কথা হয়নি। তবে কাজ এভাবে ঝুলিয়ে রাখার সুযোগ না থাকায় বাতিলের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।