চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গলে চা শিল্পের টেকসই উন্নয়ন এবং নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করতে জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চা বাগানের ব্যবস্থাপক, কর্মকর্তা এবং ট্রেডার্সদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মশালায় পরিবেশবান্ধব বায়োপেস্টিসাইড ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। কর্মশালায় ব্র্যাক সিডের বাজারজাত বিভিন্ন জৈব বালাইনাশকের কার্যকারিতা, প্রয়োগ পদ্ধতি এবং মাঠপর্যায়ে এর ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করা হয়। বিশেষ করে চা পাতায় আক্রমণকারী ক্ষতিকর পোকামাকড়, মাকড় ও ছত্রাক দমনে আধুনিক জৈব সমাধান নিয়ে আলোচনা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করে। মাকড় নিয়ন্ত্রণে ‘ম্যাট্রিক্সিন প্লাস’ ও ‘বায়োম্যাক্স এম’-এর কার্যকারিতা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি মাটিতে থাকা ক্ষতিকর অনুজীব, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক দমনে ‘লাইকোম্যাক্স’, ‘ট্রাইকোম্যাক্স’ এবং ‘ডায়নামিক’ ব্যবহারের বিষয়ে বিশেষ পরামর্শ প্রদান করা হয়। বক্তারা জানান, এসব জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হওয়ার পাশাপাশি চায়ের গুণগত মানও উন্নত হয়। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই)-এর পরিচালক ড. মো. ইসমাইল হোসেন কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বায়োপেস্টিসাইডের প্রডাক্ট ম্যানেজার কৃষিবিদ আরাফাত সাদাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরআই-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও কীটতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন এবং প্লান্ট প্যাথলজি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু রায়হান। এছাড়া অভ্যন্তরীণ রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ অঞ্চলের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মোঃ আনিছুর রহমান। কর্মশালার সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন টেরিটরি অফিসার কৃষিবিদ আবুল কাশেম শাহরিয়ার। মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত বিটিআরআই কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রায় ৭০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রশ্নোত্তর ও উন্মুক্ত আলোচনায় তারা জৈব বালাইনাশকের ব্যবহারিক দিক নিয়ে নানা মতামত তুলে ধরেন। অংশগ্রহণকারীরা চা বাগানে পরিবেশবান্ধব এসব বায়োপেস্টিসাইড ব্যবহারের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ চা শিল্পে টেকসই উৎপাদন নিশ্চিতের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ চা উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।