ব্যাংকিং খাতে লুটেরাদের পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না

সিলেটে ইসলামী ব্যাংকিং গ্রাহক ঐক্য পরিষদের মানববন্ধন

এফএনএস (এইচ এম শহিদুল ইসলাম; সিলেট) :
| আপডেট: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:২০ পিএম | প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
সিলেটে ইসলামী ব্যাংকিং গ্রাহক ঐক্য পরিষদের মানববন্ধন

পতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনামলে শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, বরং পুরো দেশের ব্যাংকিং খাতকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো-সহ একাধিক লুটেরা গোষ্ঠী ব্যাংকগুলোর হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করেছে। এই দুর্নীতি শুধু অর্থনীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেনি, বরং কোটি কোটি আমানতকারীর আস্থাও ভেঙে দিয়েছে। পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যাংকিং খাত পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছিল, যা আশার আলো দেখিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে আবারও সেই পুরোনো লুটপাটের সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে বিতর্কিত ও অভিযুক্ত লুটেরা এবং অর্থপাচারকারীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে দেশের প্রায় ৩ কোটি গ্রাহকের আস্থার প্রতীক ইসলামী ব্যাংকে পুনরায় এস আলম গোষ্ঠীকে প্রতিষ্ঠিত করার ষড়যন্ত্র গভীর উদ্বেগের বিষয়। এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশ্ন নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। এ ধরনের ফ্যাসিবাদী ধাঁচের ব্যাংক লুটপাটের প্রচেষ্টা দেশের জনগণ আর মেনে নেবে না। জনগণ এখন সচেতন, সংগঠিত এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

অতএব, অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনার দায়িত্ব তার মূল উদ্যোক্তা ও প্রকৃত শেয়ার মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। এটাই সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট নগরীতে ইসলামী ব্যাংকিং গ্রাহক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিষদের সমন্বয়ক ফাতির আহমদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব কবির আহমদের পরিচালনায় নগরীর তালতলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশসহ বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকের বিপুলসংখ্যক গ্রাহক অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে সরকারের প্রতি চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো,  ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬-এর বিতর্কিত ধারা বাতিল করতে হবে। এস আলম গংদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।  প্রকৃত শেয়ার মালিকদের হাতে ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে। পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে হবে এবং পাচারকারীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা বারের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট রহমত আলী, আয়কর আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম, বদরুল আমিন হারুন, ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান, জেলা বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জামিল আহমদ রাজু, অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন শামীম, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন, ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন, আব্দুল কাদির, আব্দুল হামিদ ও শরীফ উদ্দিন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড দেশে প্রথম ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করেছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাংকটি শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সুনাম অর্জন করে। ইসলামী ব্যাংকের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশে আরও পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি দেশের প্রায় সব ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের জন্য আলাদা ইসলামিক উইন্ডো চালু করে। কিন্তু পতিত হাসিনা সরকার তার পেটোয়া বাহিনী দিয়ে রাতের আঁধারে ব্যাংকের পরিচালকদের অপসারণ করে ইসলামী ব্যাংকটি এস আলম গ্রুপের হাতে তুলে দেয় বলে বক্তারা অভিযোগ করেন। এর সুযোগে এস আলম গ্রুপ একাই ব্যাংক থেকে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে নেয়। শুধু তাই নয়, তারা দেশের বাকি পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক থেকেও বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করে ব্যাংকগুলোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সরকার একটি বিতর্কিত ধারা সংযোজনের মাধ্যমে এস আলম গোষ্ঠীকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশসহ অন্যান্য ইসলামী ব্যাংকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র করছে। এই ষড়যন্ত্র সচেতন ব্যাংক গ্রাহকরা কোনোভাবেই সফল হতে দেবেন না।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে