বোরো ধান-চাল সংগ্রহে বড় সিদ্ধান্ত, ১৮.৫ লাখ টন খাদ্যশস্য কিনবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
বোরো ধান-চাল সংগ্রহে বড় সিদ্ধান্ত, ১৮.৫ লাখ টন খাদ্যশস্য কিনবে সরকার

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বোরো মৌসুমে ধান, চাল ও গম সংগ্রহের নতুন লক্ষ্যমাত্রা ও ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য জানান। আগামী ৩ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সরকারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এবার অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে মোট ১৮ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ৫ লাখ টন ধান, ১২ লাখ টন সিদ্ধ চাল, ১ লাখ টন আতপ চাল এবং ৫০ হাজার টন গম।

এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কৃষক ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা উভয় ক্ষেত্রেই নতুন আশার কথা শোনা যাচ্ছে। সরকার বলছে, কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ধান ও চালের দাম নির্ধারণ, গম নিয়ে ভিন্ন তথ্য
সরকারি ঘোষণায় ধানের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা। সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং আতপ চাল ৪৮ টাকা দরে কেনা হবে। গমের ক্ষেত্রে একাধিক ঘোষণায় ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে, একদিকে ৩৬ টাকা কেজি এবং অন্যদিকে ৪০ টাকা কেজি দরে কেনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছতার সঙ্গে সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। তিনি জানান, ধান সংগ্রহ শুরু হবে ৩ মে থেকে এবং চাল সংগ্রহ শুরু হবে ১৫ মে থেকে, যা চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।

তিনি আরও বলেন, “দেশে খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়মিতভাবে সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এবারের মৌসুমেও কৃষকদের স্বার্থ ও বাজার স্থিতিশীলতা বিবেচনায় সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

খাদ্য মজুদ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে বার্ষিক খাদ্যশস্যের চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ মেট্রিক টন। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন থাকে ৭০ থেকে ৭২ লাখ মেট্রিক টন। ঘাটতি পূরণে প্রতি বছর গড়ে ৮ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়, যা সরকারি পর্যায়ে জি টু জি বা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

বর্তমানে দেশে খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ লাখ মেট্রিক টন। নিরাপদ মজুদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ মেট্রিক টন, যা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। ভবিষ্যতে এই মজুদ ২৪ থেকে ২৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

খাদ্য পরিকল্পনা কমিটির বৈঠকে আরও জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারি পর্যায়ে গম কেনার আলোচনা চলছে। প্রয়োজন হলে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমেও গম সংগ্রহ করা হবে।

কৃষকদের জন্য কী বার্তা দিচ্ছে এই সিদ্ধান্ত
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংগ্রহ মূল্য কৃষকদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনতে পারে, বিশেষ করে যখন উৎপাদন খরচ ও বাজারদরের মধ্যে চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে গমের দামে ভিন্ন তথ্য থাকায় বাজারে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকার বলছে, ধাপে ধাপে সংগ্রহ কার্যক্রম আরও কার্যকর করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানির মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে