রাজশাহী ও নাটোর বাস মালিক সমিতির চলমান বিরোধের জেরে রাজশাহী-ঢাকা রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে রাজশাহীর সঙ্গে বিভিন্ন জেলার বন্ধ রয়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দ্বিতীয় দিনের মতো বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজশাহী থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় বাস মালিক সমিতির নেতারা। তবে রাজশাহী থেকে নওগাঁ ও চাঁপাইনবয়াবগঞ্জ রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, নাটোরের ওপর দিয়ে রাজশাহীর বাস চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে পাল্টা অভিযোগ করে নাটোরের বাস মালিকরা বলেন, তাদের বাস রাজশাহীতে গেলে আটকে দেওয়া হচ্ছে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাটোর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের ‘আন্দান পরিবহন’ নামে একটি বাস নির্ধারিত নিয়ম না মেনে চলাচল করায় দুই জেলার মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। বাসটি নির্দিষ্ট চেইন বা সময়সূচি না মেনে রংপুর-রাজশাহী রুটে চলাচল করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টার্মিনালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গন্তব্যে যেতে পারেননি অনেকে। পরে বাধ্য হয়ে কেউ ট্রেন, কেউ মাইক্রোবাস কিংবা স্থানীয় পরিবহনে ভেঙে ভেঙে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। যাত্রীদের অভিযোগ, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও রোগীরা। তাদের দাবি, মালিক সমিতির বিরোধের দায় সাধারণ যাত্রীদের ওপর চাপানো হচ্ছে। রাজশাহী বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। আজিম নামের এক যাত্রী বলেন, গতকাল ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু যেতে পারিনি। আজ বুধবার বাসস্ট্যান্ডে এসে ফিরে যাচ্ছি। পরিবার এবং ছোট বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে। কবে বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে তারা বলতে পারছে না। প্রতিদিন এভাবে এসে বাসায় ফিরে যাওয়া কষ্টকর।
সিরাজগঞ্জগামী যাত্রী জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাস বন্ধ পেয়ে বিপাকে পড়েছি। কোনোভাবে আগে নাটোর পৌঁছাতে পারলেই অন্য ব্যবস্থা নেব। ঢাকাগামী আরেক যাত্রী ইফতেখার উদ্দিন বলেন, এভাবে হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে পড়লে আমাদের ভোগান্তি শুরু হয়। বাস চলাচল বন্ধ করবে, কিন্তু তারা আগে নোটিশ তো জানাবে। এভাবে আমাদের দূর্ভোগে ফেলার কারণ টা কি।
দেশ ট্রাভেলসের মালিক বজলুর রহমান রতন বলেন, নাটোর বাস মালিক সমিতি অন্যায়ভাবে রাজশাহীর গাড়ি আটকে দিয়েছে। কোনো আলোচনা ছাড়াই তারা এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। লোকাল বাসের রুট নির্ধারণ নিয়েও জটিলতা রয়েছে। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা রুটের বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।
বাস আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাটোর জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি প্রশান্ত কুমার পোদ্দার লক্ষ্মণ। তিনি বলেন, আমরা কোনো বাস আটকাইনি। বরং রাজশাহীতেই আমাদের কয়েকটি বাস আটকে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকেই বাস ছাড়া হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, আগের দিনের একটি বিরোধ মিটমাট হলেও নতুন করে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। ছোট জেলা হওয়ায় নাটোরকে গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।এদিকে যাত্রীদের দাবি, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিরোধ নিষ্পত্তি করে বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হোক। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তারা কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।’বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে যাত্রী ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। দুই জেলার পরিবহন মালিকরা দ্রুতই বৈঠকে বসবেন। আশা করছি খুব দ্রুতই এই সংকটের সমাধান হবে।