ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনায় এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সংকট তৈরি হয়নি, বরং বিচার ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এই উদ্যোগে মামলার নিষ্পত্তি আরও দ্রুত ও কার্যকর হচ্ছে।
দেশের চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় পরিস্থিতিকে সামনে রেখে বিচার কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সপ্তাহে দুই দিন হাইকোর্টসহ সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকাজ ভার্চুয়াল মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতি বুধবার ও বৃহস্পতিবার উভয় বিভাগের আদালতের কার্যক্রম ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। এতে আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০ অনুসরণ করা হচ্ছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর পর মামলা পরিচালনায় কোনো সংকট দেখা যায়নি, বরং এটি বিচার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে।” তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এটি একটি সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ।
তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টের কিছু আইনজীবীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন এবং দ্রুত এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
আইনজীবীদের অভিযোগ, ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে শুনানি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন হতে পারে। তাদের মতে, এতে মামলার কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি তারা প্রশ্ন তুলেছেন, আদালত ভার্চুয়াল হলেও আইনজীবীদের বাস্তবে আদালতে উপস্থিত থাকতে হচ্ছে, ফলে জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্য পুরোপুরি বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে বিচারব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশনের সুবিধা এবং বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান স্পষ্ট হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পদ্ধতি আরও কার্যকর হবে এবং বিচারপ্রক্রিয়া আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।