কেশবপুরের চিকিৎসা জগতের প্রিয়মুখ ডাক্তার কারুজ্জামান(৫৫) আর বেঁচে নেই। বুধবার সকাল দশটায় ঢাকার স্কয়ার হসপিটালে চিকিৎসা ধীন অবস্থায় তার মৃত্যু বরণ করেছেন । তাঁর অকাল মৃত্যুতে কেশবপুর বাসীর এক অমূল্য মানবিক সম্পদ হারিয়েছে। কেশবপুরে কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা এক মানবিক ডাক্তার কামরুজ্জামান। কেশবপুর উপজেলার সুফলাকাটি ইউনিয়নের হাড়িয়াঘোপ গ্রামে কৃষক প্রায়ত লোকমান মোল্লার পুত্র। তাঁর স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান নিয়ে ঢাকার নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি ছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থপেটিক বিভাগের সিনিয়র চিকিৎসক। এর আগে তিনি কেশবপুর সরকারি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ছিলেন। এরপর থেকে তিনি কেশবপুর হোসেন প্যাথলজি এন্ড হাসপাতালে ও তাঁর জন্মভূমি সুফলাকাটী ইউনিয়ন নিয়মিত সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা দিতেন। তিনি ডাক্তার হওয়ার পর তাঁর বাবা বলেছিলেন গ্রামের মানুষকে সেবা করতে। শত ব্যস্থতার মাঝেও তিনি বাবার কথা রাখতেন। কোন প্রকার ফি ছাড়াই নিজ এলাকার বাড়িতে রোগী দেখতেন। কেশবপুরের মানুষের মাঝে হয়ে উঠেছিলেন প্রিয় মুখ। মুখের হাসিতেই মানুষকে সবচেয়ে বেশি প্রীয় করে তুলে ছিলো। অসহায় রোগীর সেবা করতে করতে নিজের দিকে লক্ষ্য করেননি কখনো, তাইতো বড় অসময়ে চলে গেলেন। ভালো মানুষগুলো সত্যিই এইভাবে যেন তাড়াতাড়ি চলে যান। তাঁরমতো আন্তরিক ও হাসিমাখা নিয়ে মানুষ খুব কম হয় জগতে। তাঁর অকাল মৃত্যুতে কেশবপুর বাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কেশবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও যশোর-৬ কেশবপুর আসনের মাননীয় সাংসদ সদস্য অধ্যাপক মুক্তার আলী,বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কেশবপুর আসলাম বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ, কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, তাঁর শিশুকালের বেতিখোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (অবঃ) মোঃ শহিদুল ইসলাম। বুধবার এশার নামাজের পর কেশবপুর পাবলিক ময়দানে ও রাতে নারায়নপুর স্কুল মাঠে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তার মৃত্যুতে গোটা উপজেলার মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।